,
output_6836qW

থামেনি চোরা শিকার

সিলেট সুরমা ডেস্ক::::: বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে বাঘ-মানুষের দ্বন্দ্ব কমিয়ে আনার কথা বন অধিদপ্তর দাবি করলেও থেমে নেই চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম।
বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্টের ২০০৯ সালের জরিপে বাংলাদেশে চারশ থেকে সাড়ে চারশ রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকার কথা বলা হলেও এ বছর বন বিভাগ ও ওয়াইল্ডলাইফ ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ার ক্যামেরা পদ্ধতির জরিপে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৬টিতে।
২০০১ সাল থেকে চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত সময়ে চোরা শিকারীদের হাতে অন্তত আটটি বাঘের মৃত্যু হয়েছে বলে সুন্দরবন বিভাগের বনসংরক্ষক (সিএফ) জহির উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের সুন্দরবন থেকে বাঘ হত্যা করে এর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিদেশে পাচারের সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য এবং প্রভাবশালীরাও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
বন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযাযী, গত পনের বছরে সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ৩২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে; অন্যদিকে মানুষের হাতে মারা পড়েছে অন্তত ৩০টি বাঘ। বন অধিদপ্তর বলছে, গেল তিন বছরে লোকালয়ে আসা কোনো বাঘ মারা যায়নি
বন অধিদপ্তরের প্রধান বনসংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী  বলেন, “বাঘ-মানুষের দ্বন্দ্ব কমাতে পারা আমাদের একটা বড় সফলতা। কিন্তু সুন্দরবনে বিশাল আন্তর্জতাকি বর্ডার যেমন রয়েছে, তাতে বাঘ শিকারের বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। চোরা শিকার, হরিণ পাচার- এটা বাঘের বড় থ্রেট”।
প্রকৃতি সংরক্ষণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক উপ-প্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে  বলেন, “সাম্প্রতিককালে বন বিভাগ ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত কর্মতৎপরতায় বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্বে জীবনহানি কমেছে। বিশেষ করে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে লোকালয়ে চলে আসা কোনো বাঘ মারা যায়নি। বাঘের আক্রমণে মানুষ মারা যাওয়ার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।”

তবে চোরা শিকারির উৎপাত বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, র‌্যাব ও পুলিশের হাতে চারটি বাঘের চামড়া ধরা পড়েছে এই সময়ে।

বন সুরক্ষায় ‘স্মার্ট পেট্রলিং’সহ কিছু উদ্যোগ থাকলেও নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন প্রধান বন সংরক্ষক।

খুলনার কয়রায় বাঘের চামড়া বেচা-কেনার সময় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

খুলনার কয়রায় বাঘের চামড়া বেচা-কেনার সময় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।
তিনি বলেন, “পুরো সুন্দরবনের জন্য মাত্র ৭০০ লোকবল, মানে ১০ বর্গ কিলোমিটারে একজন। এটা বড় দুর্বলতা। সুন্দরবনে যে কাজেই যাক না কেনো নৌ লাইসেন্স ও অনুমতি নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও কোথাও তা করতে পারিনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোরা শিকারীদের পাশাপাশি বনের ভিতর দিয়ে লাগামহীনভাবে নৌচলাচল, সুন্দরবনের পাশে বৃহৎ আকার শিল্প অবকাঠামো নির্মান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, লোকালয় সংলগ্ন খাল-নদী ভরাট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাঘের অস্তিত্ব রক্ষার পথে বাধা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার দে জানান, সুন্দরবনে বাঘের শিকার প্রাণীর মধ্যে চিত্রা হরিণ, শুকর, মায়া হরিণ ও বানর রয়েছে। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হলে শিকার প্রাণির সংখ্যা বাড়াতে হবে।

“এখনই সকলকে আমাদের জাতীয় প্রাণী বাঘ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে এ বিপন্ন প্রাণীটি দেশ থেকে অচিরেই হারিয়ে যাবে।”

রয়েল বেঙ্গল টাইগার

>> বিশ্বের সর্ববৃহৎ একক ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট (বাদাবন) সুন্দরবনে এই বাঘের বসবাস।

>> পূর্ণ বয়স্ক বাঘের ওজন সর্বোচ্চ ২২০ কেজি, বাঘিনীর ওজন সর্বোচ্চ ১৬০ কেজি।

>> প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা ১০ থেকে ১৪ বছর বাঁচে। তবে বন্দি অবস্থায় আয়ু ১৮-১৯ বছর।

>> বাঘিনী ২-৩ বছর পর পর এক সাথে দুই থেকে তিনটি বাচ্চা দেয়। বাচ্চারা মায়ের সাথে থাকে দুই বছর।

>> তিন প্রজাতির বাঘ পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যে ১৩টি দেশে বাঘ টিকে আছে সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস ও রাশিয়া।

বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী অঞ্চলের বন সংরক্ষক অসিত রঞ্জন পাল বলেন, বাঘ রক্ষায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। শুক্রবার বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে অগাস্টের শুরুতেও নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি নয়াদিল্লীতে সুন্দরবন বিষয়ক আন্তর্জাতিক এক অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাঘ রক্ষায় দুই দেশই প্রয়োজনীয় তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে। ওই অনুষ্ঠানে আমরা বলেছি- বাঘ রক্ষা করতে হলে সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে সবার।”

এদিকে সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাগেরহাটের রামপালে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে তাতে বন ও বাঘের ক্ষতি হবে বলেও শঙ্কা রয়েছে পরিবেশবাদীদের একটি অংশের।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, সুন্দরবনের এত কাছে এই কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে তা থেকে বিষাক্ত গ্যাস ও রাসায়নিক বর্জ্যে ‘নিশ্চিতভাবেই’ সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য ধ্বংস হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তজনিত সঙ্কেটে ধ্বংসলীলার চারণভূমিতে পরিণত হবে।

অবশ্য প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলীর বিশ্বাস, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনে কোনো ‘নেতিবাচক’ প্রভাব পড়বে না।

“যারা রামপাল সম্পর্কে মন্তব্য করে তারা গভীরে যায় না, তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইউনেস্কোর ‘রিয়েকটিভ মনিটরিং মিশন’ প্রতিনিধি দলও রামপালের বিষয়ে কোনো বিরূপ মতামত দেয়নি।”



সংবাদটি 362 বার পঠিত
এ সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •   
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

শিরোনাম

.......................................................................................................... ............................................................................................................. logo copy
12-4-300x214
সম্পাদক ও প্রকাশক মো. নাজমুল ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক : আমিনুল ইসলাম রোকন
সিলেট সুরমা মিডিয়া কর্পোরেশনের পক্ষে শহিদ আহমদ চৌধুরী সাজু কর্তৃক মুদ্রিত ও
সিটি সেন্টার (১০ম তলা),জিন্দাবাজার,
সিলেট থেকে প্রকাশিত।
ফোন : ০৮২১-৭১১০৬৯,
মোবাইল : (নির্বাহী সম্পাদক-০১৭১৫-৭৫৬৭১০ )
০১৬১১-৪০৫০০১-২(বার্তা),
০১৬১১-৪০৫০০৩(বিজ্ঞাপন), ইমেইল : www.sylhetsurma2011@gmail.com
ওয়েব : www.sylhetsurma.com
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের গণহত্যা বন্ধের দাবীতে কুশিঘাটে মানববন্ধন জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ রোহিঙ্গাদের ফেরানো বাংলাদেশ সরকারের ওপরও নির্ভর করে : সুচি মাধবপুরে গাঁজাসহ ২ পাচারকারী গ্রেফতার নিরপরাধ অসহায় নিরস্ত্র মুসলিম রোহিঙ্গাদের হত্যা বন্ধ করুন : কাউন্সিলর লিপন জামালপুরে বন্যার্তদের মাঝে ড্রিম এইড ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ সিলেট থেকে বিশাল গাড়িবহর টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংকট নিরসনে শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প বাংলাদেশের সাফল্যের কথা প্রচার করতে প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান সুচির পুরস্কার স্থগিত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বোরহানবাগ ক্লাবের অর্থ প্রদান মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কাউন্সিলর হাজী তৌফিক বকস্’র কঠোর অবস্থান : মানববন্ধনে বক্তারা মিয়ানমারে গণহত্যার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন সিলেটের শহর-গ্রামে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে থাকবে হবিগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ মিয়ানমারে জাতিগত সংখ্যালঘু নিধনের ঘটনা ঘটেনি : দাবি সুচির ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহর ৪৬ তম জন্মদিন আজ হেতিমগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ অবিলম্বে বন্ধের দাবি শ্রীরামপুরে রুহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা,নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা, নির্যাতনের প্রতিবাদে কদমতলীতে মানববন্ধন কাল মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মানবাধিকারের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে ৬টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ১৬টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীর ৬০ শতাংশই শিশু : ইউনিসেফ ছাত্রলীগ কর্মী মাসুম হত্যা : গ্রেপ্তার নেই শ্রীমঙ্গলে ১০ লিটার চোলাই মদসহ আটক ১ মাধবপুরে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা আটক আলমপুরের মুরব্বী নুরুল হক রুনু আর নেই : জানাযা সম্পন্ন মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী মাধবপুরে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড সিলেট বিভাগে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে গ্রামীণফোনের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ বিএনপি নেতা শামীমের পিতা অসুস্থ : দোয়া কামনা জামালগঞ্জে ১৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বাংলাদেশে ‘পরোক্ষ আক্রমণ’ চালাচ্ছে মিয়ানমার: অর্থমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দেখতে মঙ্গলবার উখিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের অস্ত্রবিরতির ঘোষণা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৫০ লাখ ডলার দেবে অস্ট্রেলিয়া রোহিঙ্গাদের পাশে মমতা ব্যানার্জি গোলাপগঞ্জে ২ সন্তানের জননীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ২০২১ সালের মধ্যে দেশ নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে : প্রধানমন্ত্রী বিদেশ যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি ১০ দিনে বাংলাদেশে ঢুকেছে দুই লাখ রোহিঙ্গা! মিরপুরের জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিক ও নৈশপ্রহরী গ্রেপ্তার মিয়ানমারে বাংলাদেশি হ্যাকারদের হানা মালয়েশিয়ায় ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কাউন্সিলর লিপন বকস্’র ঈদ শুভেচ্ছা আ’লীগ নেতা হাজী গুলজার আহমেদের ঈদ শুভেচ্ছা