প্রচ্ছদ

ইচ্ছেমত সিগারেটের দাম রাখছেন বিক্রেতারা

১৭ জুন ২০১৯, ০০:১৬

sylhetsurma.com

সিলেট সুরমা ডেস্ক : সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশনের লিটন ভেরাইটিজ ষ্টোরে প্রতি শলাকা বেনসন অ্যান্ড হেজেস সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকায়। একই সিগারেট পূর্ব জিন্দাবাজারের সহির প্লাজার সামনের টং দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়। নগরীর ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন সার্কিট হাউজ এলাকার ময়না বেগমের চায়ের দোকানে প্রতি শলাকা বেনসন বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা।

এমন চলছে গত কয়েকদিন ধরেই। বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই। কেবল বেনসন নয়, বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিগারেটের দামই একেক দোকানে একেক রকম রাখা হচ্ছে। সিগারেটের দাম নিয়ে চলছে এই নৈরাজ্য। ইচ্ছেমত দাম রাখছেন বিক্রেতারা।

ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে প্রতি বছরই বাজেটে সিগারেটের উপর নতুন করে করারোপ করা হয়। এতে বাজেট ঘোষণার পরই বেড়ে যায় সিগারেটের দাম। তবে এবার বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই সিগারেটের দাম বাড়তে থাকে।

এবার বাজেট ঘোষণার আগেই সিগারেটের উপর বাড়তি করারোপের খবর ছড়িয়ে পরে। এমন খবরে বাজেট ঘোষণার আগেই দাম বাড়িয়ে দেন বিক্রেতারা।

তবে দাম বাড়ানো সিগারেট ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিটির প্যাকেটেই এখনও আগের দামই লেখা রয়েছে। ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেটে বেনসনের দাম লেখা রয়েছে ২১০টাকা।

ক্রেতারা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজেটের পূর্ব মুহূর্তে সিগারেট স্টক করে রেখে দাম বাড়াচ্ছেন আর দোকানীরা বলছেন সিগারেট বাজারে পাওয়া গেলেও তাদের কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। আর সিলেটের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান বলেছে কোম্পানি থেকে সিগারেট বাজারে ছাড়া হচ্ছে কম।

রোববার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি উৎপাদিত প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির সিগারেট বেনসন অ্যান্ড হেজেসের খুচরা বাজারে ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেট সিগারেটের মূল্য ২১০টাকা থাকলেও ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করা হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া একই কোম্পানির উৎপাদিত গোল্ডলিফের প্রতি প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। স্টার ব্র্যান্ডের সিগারেট প্যাকেট প্রতি ৯৬ টাকার পরিবর্তে রাখা হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। ক্যাপ্টেন ব্র্যান্ডের সিগারেটের নির্ধারিত মূল্য ১৫০ টাকা প্যাকেটের পরিবর্তে ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত এবং ডারবি সিগারেটের প্যাকেট প্রতি নির্ধারিত মূল্য ৭০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি করা হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত।

দামের এ তারতম্যের কারণ জানতে দোকানীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির সিলেটের পরিবেশক মেসার্স করিম বক্স মৌলা বক্স খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোম্পানি নির্ধারিত মূল্য থেকে বেশি দাম নিচ্ছেন। আবার কখনো দোকানীদের সিগারেট নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তখন খুচরা বিক্রেতারা নগরীর হকার্স মার্কেটের পাইকারি সিগারেটের দোকান থেকে সিগারেট কিনতে গেলে সেখান থেকেও কিনতে হচ্ছে নির্ধারিত মূল্য থেকে বেশি দিয়ে।

নির্ধারিত মূল্য থেকে বেশি দামে সিগারেট বিক্রির ব্যাপারে জিন্দাবাজারের হক সুপার মার্কেটের সামনে খুচরা সিগারেট বিক্রেতা ফজলুল ষ্টোরের স্বত্বাধিকারী ফজলুল বলেন, আমি বর্তমানে কোম্পানির কাছ থেকে বেনসন অ্যান্ড হেজেস প্রতি প্যাকেট কিনছি ২৪০ টাকা দিয়ে, গোল্ড লিফ কিনছি ১৮৬ টাকা, স্টার সিগারেট কিনছি ১১৫ টাকা ও ডারবি সিগারেট কিনছি ৮৪ টাকা দিয়ে।

আগের থেকে বেশি দাম দিয়ে সিগারেট কিনে কিভাবে পূর্বের দামে বিক্রি করবো এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমাদের তো আর কিছু করার নাই। বেশি দামে কিনছি বলেইতো বেশি দামে বিক্রি করছি।

এদিকে ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন সার্কিট হাউজ এলাকার চায়ের দোকানী ময়না বেগম জানান, আমি বেনসন অ্যান্ড হেজেস সিগারেট ১৫ টাকায় বিক্রি করছি, গোল্ড লিফ সিগারেট ১০ টাকা ও স্টার সিগারেট ৮ টাকায়। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা তো আর কোম্পানির কাছ থেকে সিগারেট কিনিতে পারি না। আমরা সিগারেট কিনি খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে। তারা সিগারেটের প্যাকেট প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেশি রাখছে। তাই আমি সিগারেট এতো দামে বিক্রি করছি।

এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, সিগারেটের দাম নিয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই। যেহেতু এরকম একটি অভিযোগ উঠেছে তাই আমরা আগামীকালই (সোমাবার) ভোক্তা অধিকারের সাথে এ বিষয় নিয়ে বসে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অভিযোগ উঠেছে, বাজেট ঘোষণার পর কোম্পানিগুলো আগের সিগারেটগুলোই সরবরাহ করছে। কিন্তু নতুন দামে। অন্যদিকে বাজেটের আগে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীও বিপুল পরিমাণ সিগারেট কিনে গুদামজাত করে রেখেছিলেন। এখন সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করছেন তারা। এ প্রক্রিয়ায় ভোক্তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়া হলেও সে অনুযায়ী রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার।

এদিকে সিলেটের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান থেকে সিগারেটের প্যাকেট মূল্যের থেকে বেশি দাম ধরে দোকানে দোকানে স্টিকার সেটে দিয়েছেন। যেখানে লিখা রয়েছে বেনসন ১ শলাকা ১৩ টাকা যা প্যাকেটে লিখা দামের চেয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা বেশি। গোল্ডলিফ ১ শলাকা ১০ টাকা যা প্যাকেটে লিখা দামের চেয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা বেশি, ষ্টার ১ শলাকা ৬ টাকা যা প্যাকেটে লিখা দামের চেয়ে ১ টাকা ২০ পয়সা বেশি। তবে সেখানে ডার্বির দাম অপরিবর্তিত রেখেছে পরিবেশক প্রতিষ্ঠান। ডার্বি বিক্রি করার জন্য ৪ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার দাম ৩৭ টাকা এবং ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার দাম ৬৩ টাকা এবং ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ৯৩ টাকা ও ১২৩ টাকা এবং ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

তথ্য সূত্র, সিলেট টুডে ২৪ ডটকম লিংক সংযুক্ত

  •  
  •