প্রচ্ছদ

দক্ষিণ সুরমায় নিঃসঙ্গতায় অসুস্থ হয়ে পড়া তরুণীকে নিয়ে বিপাকে প্রবাসী পরিবার

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৩১

sylhetsurma.com

দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি ::::
দক্ষিণ সুরমায় নিঃসঙ্গতায় অসুস্থ হয়ে পড়া এক তরুণীকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে একটি পরিবার। স্থানীয় কোন নিকটাত্মীয় না থাকায় ঐ তরুণীর তত্বাবধানের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতা চেয়েছেন ঐ তরুণীর ভাই।
জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের অর্ন্তগত মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের মেয়ে আমিনা সুলতানা তার পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করেন। তার মা, ভাই ও বোনেরা যুক্তরাজ্য প্রবাসী। পরিবার পরিজন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় আমিনা নিজ বাড়িতে একাকী বসবাস করে। বছর খানেক আগে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে কেনাকাটা করতে গেলে কিছু বখাটে যুবক আমিনাকে উত্যক্ত করে। ঐ ঘটনার চরম মানসিক আঘাত পায় আমিনা। বাড়ি ফিরে সে চরম অসুস্থ হয়ে পড়ে। আতঙ্কে সে রাতে ঘুমাতে পারেনা। তার ওজন কমতে থাকে। খাওয়া দাওয়া কমে যায়। লোকজনের সংস্পর্শ এড়িয়ে সে পিতার ঘরে নিজেকে বন্দি করে ফেলে। অপরিচিত লোকজনকে দেখলে সে আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকে।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আমিনার মা ও ভাই বোনেরা বিষয়টি জানতে পেরে আমিনাকে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ গোপাল শংকর দে’র তত্বাবধায়নে প্রায় ১০ দিন চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে আমিনা। কিন্তু, তার মানসিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। এক রাতে সে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। গ্রামে অবস্থানরত আমিনার চাচাতো ভাই লিলু মিয়াসহ আত্মীয় স্বজন আমিনাকে খুঁজে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আমিনার এরূপ আচরণের বিষয়ে মোগলাবাজার থানায় একটি জিডি এন্ট্রিও করেন লিলু মিয়া।
আমিনার অবস্থা ক্রমেই অবনতি হতে থাকলে সম্প্রতি তার ভাই শাহরিয়ার হোসাইন বাংলাদেশে আসেন। তিনি আমিনার শারিরীক ও মানসিক অবস্থার উন্নতির আশায় একাধিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্বাবধানে বোনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু, এরপরও আমিনার অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি।
এ অবস্থায় বোনের নিরাপত্তা ব্যাপারে খুবই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন শাহরিয়ার হোসাইন। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা বিদেশে থাকায় আমিনা খুবই নিঃসঙ্গ অবস্থায় চরম মানসিক অবসাদের শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু, আমাদের পক্ষে দেশে অবস্থান করে সার্বক্ষণিক তার পাশে থাকাও সম্ভব হচ্ছেনা। এ অবস্থায় আমিনার নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি আমি আমার বোনের নিরপত্তা বিধানে সহযোগিতা চেয়ে সিলাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছি। চেয়ারম্যান ইকরাম হোসেন আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকরাম হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান, পরিবারের অনুপস্থিতির কারণে নিঃসঙ্গতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার এমন ঘটনা বিরল। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ আব্দুল হান্নান ইতোপূর্বে আমিনার বিষয়ে একাধিক বার সালিশ বৈঠক করেছেন এবং আমিনাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার চেষ্টাও করেছেন। আমরা তার নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করবো।

  •  
  •