রাগীব আলীর অন্তিম প্রহর : আতঙ্কে তারাপুরবাসী

প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার :: অন্তিম প্রহর চলছে সিলেটের বহুল আলোচিত নাম রাগীব আলীর। দেশব্যাপী দাপুটে এ ব্যাক্তিত্বের নিদারুণ দুঃসময় কাটছে সম্প্রতি। বিলাসী জীবনে আগে কখনো এমন দুঃসময়ের মুখোমুখি হননি তিনি। তাই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া এ অসময়কে ঘিরে তিনি এখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। তারাপুর চা-বাগান থেকে অবৈধ স্থাপনা সরাতে জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তির বেঁধে দেয়া সময় চলে গেছে। এখন তারাপুরে যেকোনো সময় শুরু হতে পারে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। তাই শঙ্কা পিছু ছাড়ছে না তারাপুরবাসীর। কী করবেন, কোথায় যাবেনÑ এমন ভাবনায় রাগীব আলীর সাথে অন্ধকার সময় পার করছেন তাপুরের বাসিন্দারাও। উচ্ছেদ আতঙ্ক কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তাদের। রাগীব আলীকে বেঁধে দেয়া সময় চলে যাওয়ায় দফায় দফায় বৈঠক করছে প্রশাসন। উপরের নির্দেশ পেলেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্তা। তবে আরেকটু সময় দেয়ার জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন রাগীব আলী। তাঁর পুত্র আবদুল হাই স্বাক্ষরিত এ আবেদনের শুনানি ছিলো গতকাল। তবে সময় না দিয়ে আগামী রোববার এর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আদালত সূত্র জানায়, এই আবেদনে আবদুল হাই স্থাপনা সরানোর আদালতের দেয়া সময় বাড়াতে চেয়েছেন। পাশাপাশি রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ সিলেটের স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে এই মেডিকেল বিষয়ে সমীহ সিদ্ধান্তের জন্য প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি কামনা করেন। এদিকে, আতঙ্ক গিলে খাচ্ছে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদেরও। উচ্ছেদ শুরু হলে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে এমন ভাবনায় তারাও এখন দিশেহারা। মেডিকেল কলেজটি মানবিক বিবেচনায় বহাল রাখতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা। মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনÑ এমন নানা কর্মসূচি পালন করে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছেন রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ এবং নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। রাগীব আলী প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা গত শনিবার সিলেট নগরের কেন্দ্রস্থল চৌহাট্টা এলাকায় মানববন্ধন করে উচ্ছেদ না করার আকুতি জানিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার পাঠানটুলা মোড়ে তারাপুর মৌজায় বসবাসরত এলাকাবাসীর মানববন্ধনে একাত্ম হয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন মদিনা মার্কেট সুবিদবাজার থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকা তারাপুরবাসী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ২০ জুলাই জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজ দায়িত্বে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশের শেষ দিন বেলা ১১টায় মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের জরুরি সভা আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী মৌন মিছিল করে স্থাপনা রক্ষার বিভিন্ন আহ্বান-সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে চৌহাট্টা এলাকায় অবস্থান নেন। ওদিকে, বেঁধে দেয়া সময় চলে গেলেও গতকাল পর্যন্ত তারাপুরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেনি প্রশাসন। তবে পরবর্তী করনীয় নির্ধারণ করতে গতকাল বৈঠক করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন। জালিয়াতির মাধ্যমে দখলকৃত দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধভাবে নির্মিত রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থানান্তরের ব্যাপারে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার (অ্যাটর্নি জেনারেল) পরামর্শ চাওয়া হবে বলে ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ স্ব-উদ্যোগ তাদের স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় গতকাল রোববার সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে বৈঠক করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন। বৈঠকে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সময় চাইলেও উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন জেলা প্রশাসক। এ অবস্থায় রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে আইনি পদক্ষেপের জন্য রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পরামর্শ চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদিন। বৈঠকের পর তিনি বলেন, বৈঠকে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষার্থী ও রোগীদের নানা অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। এজন্য তারা স্থাপনা সরিয়ে নিতে সময় প্রার্থনা করেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত ছয় মাস সময় পেরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় আমাদের পক্ষে আর কিছু করা সম্ভব নয়। গতকাল রোববার বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদিনের সভাপতিত্বে এ সভায় জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দেবজিৎ সিনহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নুরুল হুদা ও জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মুহাম্মদ মাছুম বিল্লাহ। আইনি বিষয়ে আলোচনার জন্য সিলেটে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও জিপি অ্যাডভোকেট খাদেমুল মিল্লাত মো. জালালও জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রনে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বৈঠকে ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী, সিলেট বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. গৌরমনি সিনহা, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আবদুস সালাম, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. তায়েফ আহমদ, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবদুল জলিল, অধ্যাপক ডা. প্রদ্যোত কুমার ভট্টাচার্য্য, অধ্যাপক ডা. একেএম দাউদ ও অধ্যাপক ডা. এমএ সবুর।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১