শঙ্কা পিছু ছাড়ছে না তারাপুরবাসীর

প্রকাশিত: ১১:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার ::::শঙ্কা পিছু ছাড়ছে না তারাপুরবাসীর। উচ্ছেদের নোটিশ আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের বিজ্ঞপ্তি ঘুম হারাম করে দিয়েছে তাদের। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর ভয়ে তারা এখন দিশেহারা। কী করবেন, কোথায় যাবেন আর কী করলে রক্ষা পাবে তাদের সম্পদ এমন চিন্তায় অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় এখন পুরো তারাপুরবাসী। প্রশাসনের দফায় দফায় প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে তারাও দফায় দফায় নানা কর্মসূচি পালন করছেন। গতকালও সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছেন আকুল আবেদন। এদিকে, সময় চেয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে রাগীব আলীর পুত্র আবদুল হাইয়ের করা আবেদনের শুনানি গতকাল হলেও আদেশ হয়নি। হাইকোর্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে আজ আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছেন। ওদিকে, সংবাদ সম্মেলনে তারাপুরবাসী অভিযোগ করেন, এক ব্যক্তির জালিয়াতির দায়ভার কোনোভাবেই পুরো তারাপুরবাসীর ঘাড়ে যেতে পারে না। তাদের দাবি, রাগীব আলী দুর্নীতি করলে শাস্তি তাকে দেয়া হোক। আর মানবিক বিবেচনায় আনা হোক তারাপুরের সাড়ে ৩ হাজার নিরীহ পরিবারকে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানান তারা। গতকাল রোববার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আহবান জানান। তারাপুর এলাকাবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এম শাহরিয়ার কবির সেলিম। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দুই যুগ ধরে তারাপুর মৌজায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবার জায়গা-জমি ক্রয় করে বসবাস করে আসছে। যথাযথ নিয়ম মেনে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিয়ে বসতভিটা নির্মাণ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে কখনো কোনো আপত্তি উত্থাপিত হয়নি। জায়গা রেজিস্ট্রি অথবা গ্যাস-সংযোগ প্রদানে এলাকাবাসী কখনো বাধার সম্মুখীন হননি। কিন্তু দীর্ঘ দুই যুগ পর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নোটিশ পেয়ে এলাকাবাসী কিংকর্তব্যবিমূঢ়। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি মামলার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসীকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য গত ২ আগস্ট জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তি খবরে এলাকার লোকজন চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। হঠাৎ করে বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিলে চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে বলে দাবি করেন তিনি। ১৯ জানুয়ারি মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে রাষ্ট্র বনাম রাগীব আলীর পুত্র আব্দুল হাইর মামলার রায়ে তারাপুর এলাকায় মেডিকেল কলেজসহ আবাসিক-বাণিজ্যিক স্থাপনা অবৈধ ঘোষণা করে পূর্ববর্তী সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের রায়ের প্রতি এলাকাবাসী শ্রদ্ধাশীল বলে দাবি করেন শাহরিয়ার কবির সেলিম। বলেন, এলাকার সাধারণ অধিবাসীরা এ মামলার সম্পর্কে কিছুই জানি না। মামলার কারণ সম্পর্কে অবগত না থাকায় রাষ্ট্র বনাম আব্দুল হাই এর মামলায় উক্ত এলাকার অধিবাসী হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ লাভ করতে পারেননি। তাই উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী অন্ধকারে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অন্যের জালিয়াতির কারণে আজ নিরপরাধ জনগণ চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। উচ্ছেদ আতঙ্কে এলাকায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। অনেক যুবক-যুবতীর বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। জাতির শ্রেষ্ট সন্তান অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বসতভিটা এখানে রয়েছে। ভিটেমাটি হারালে সবাই বাস্তহারা হয়ে পথে বসবে। এই ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। এখানেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতে চান এলাকাবাসী। তিনি বলেন, তারাপুর মৌজার চা বাগানের ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি রায় বাস্তবায়নের জন্য উচ্ছেদ না করে মানবিক কারণে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে। সেই সাথে বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত মানবিক কারণে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিচ্ছন্নের গণবিজ্ঞপ্তি স্থগিত রাখার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আবেদন জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর্জা জামাল পাশা, কাউন্সিল ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ, ফজলুর রহমান ফজলু, করিম উল্লাহ হেলাল, শামসুদ্দিন খান, সেলিম আহমদ সেলিম, নজরুল ইসলাম নজু, সিথিল দেব, অধ্যাপক আবু তাহের, ফখরুল ইসলাম ফারুক, আবুল মনসুর টিপু, সাব্বির খান, মোনায়েম খান ময়নুল, ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান, মকবুল হোসেন খান, কাউন্সিলর রেবেকা বেগম রেনু, কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন খান, তুরণ চৌধুরী, আব্দুর রউফ, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন, দবির খান, মনসুর খান বাদশা, আখতারুজ্জামান আখতার, আব্দুল আজিজ মনু, ইকবাল হোসেন লস্কর, মো. সাহাবুদ্দিন, বাহারুল ইসলাম রিপন, খলিল খান, মাসুদ খান সাজন, শরিফ বক্স, এখলাছ হোসেন, মো. আব্দুল্লাহ, জিল্লুর রহমান দিলু, শেখ মুসা, আব্দুর রহিম, শহিদুর রহমান মাস্টার, সাফায়েত খান, আজিজ খান সজিব, সৈয়দ মোজাক্কের আলী, আব্দুল মন্নান, আলা উদ্দিন, ডা. শামিম, সেবুল মিয়া, বশির খান লাল, গোলাম কিবরিয়া খান, জায়েদুর রহমান জায়েদ প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •