কারেন্ট’র তাকি লেমটন বালা

প্রকাশিত: 10:58 PM, October 8, 2016

বৈদ্যুতিক লো-ভোল্টিজে পিডিবি’র গ্রাহকরা অতিষ্ঠ

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা ::: কারেন্ট’র তাকি লেমটন বালা (বিদ্যুতের চেয়ে হাড়িকেন ভালো)। রাইত অইলে পরতাম পাড়িনা (রাত হলে পড়তে পারি না)। আমরার এখন আর গরম লাগেনা অলাউ অইব্বাশ ওইগেছে (আমাদের এখন আর গরম লাগে না এরকমই অভ্যাশ হয়ে গেছে)। এভাবে কষ্টের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন কুলাউড়া উপজেলার ৮নং রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পালগ্রাম এলাকার কলেজ ছাত্র বাবর চৌধুরী। তাদের গ্রাম সহ ইউনিয়নের রুস্তুমপুর, কবিরাজি, ১৩নং কর্মধা ইউনিয়নের বেরি, হাসিমপুর, বাবনিয়া, কান্দিগাঁও, গুতুমপুর, কোনাগাঁও, নুনা, রাঙ্গিচড়া চা বাগান, নন্ডরি, মহিষমার, রাঙ্গিচড়া বাজার, ফাড়ি বাগান, ৭নং কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গুতগুতি, লক্ষিপুর, প্রতাবী, বনগাঁও, বালিচিরি, গাজিপুর, শঙ্করপুর, ঝিমাই পুঞ্জি, কালুটি চা বাগান, ১২নং পৃথিমপাশা ইনিয়নের পুরসাই (আংশিক) গ্রামে চলছে বৈদ্যুতিক লো-ভোল্টিজের করুণ অবস্থা। আর বিদ্যুতের এই লো-ভোল্টিজে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পিডিবি’র গ্রহকরা। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এই বিষয় নিয়ে অনেক লেখা লেখি হলেও এখনো কোন ফল পাননি ভুক্তভোগীরা।
রাত হলেই বিদ্যুতের ভোল্টিজ চলে যায়, দিন হলে আবার একটু ভালো হয়। এই চার ইউনয়নের ২৫টি গ্রাম ও ৪ টি চা বাগানের প্রায় পাঁচ সহ¯্রাধিক গ্রাহকের পরিবারে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় শাত সহ¯্রধিক। যেখানে রাতের বেলা পড়ালেখা করার কথা সেখানে বিদ্যুতের ভেলকিবাজীর কারনে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় তাদেরকে হারিকেন ব্যবহার করে পড়তে হয়। রাতে একটু ভোল্টিজ পেতে কম্পিউটার সহ টিভি, ফ্রিজ বন্ধ করে দিতে হয়। তারপরও হয় না সমস্যার সমাধান। কুলাউড়া থেকে ইসলামগঞ্জ ফিডারে ১১হাজার কেভি’র যে বিদ্যুৎ লাইনে গাজিপুর কালিটি রাঙ্গিচড়া লাইনে প্রতাবী এলাকায় একটি, রাঙ্গিচড়া এলাকায় একটি, রাঙ্গিচড়া হয়ে হাসিমপুর- বেরি এলাকায় ২৫০ কেভি’র একটি ট্রান্সফর্মার রয়েছে। এই ট্রান্সফর্মাগুলোর অধিনে অধিক গ্রাম ও গ্রাহক থাকায় লো-ভোল্টিজের সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছেন গ্রাহকরা।
অনুষন্ধানে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় দেড় যুগ ধরে ধারাবাহিক ভাবে উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলের এই অবহেলিত গ্রামগুলোতে বিদ্যুতায়িত করা হয়। বিদ্যুাতায়িত হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে কলবৈশাখী ঝড়ের কবলে পরে বিদ্যুৎ লাইনগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আসছে। এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা নিজ উদ্যোগে এই ক্ষতিগ্রস্থ লাইনগুলো মেরামত করে আসছেন। পিডিবি’র গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের এলাকায় সরকারি বিদ্যুৎ লাইন থাকলেও এই লাইনগুলোর মেরামতসহ যাবতীয় কর্যক্রম করতে হয় গ্রাহকদের নিজের পকেটের টাকা দিয়ে। তারা বলেন, তারা মাসে মাসে বিদ্যুৎ বিল সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তারা কোন সেবা পাচ্ছেন না। কি কারনে বিদ্যুতায়নের পর থেকে এই অঞ্চলগুলোতে পিডিবি’র অফিসিয়াল কোন লোক এসে দেখেন না কিভাবে আছে ওই অঞ্চলগুলোর বিদ্যুৎ লাইনগুলো এই প্রশ্নই থেকে যায় গ্রাহকদের মাঝে। এই অঞ্চলগুলোতে রয়েছে প্রায় দুই শতাধিক পোল্ট্রি খামার। কিন্তু বিদ্যুৎ সমস্যার কারনে অনেক খামারিরা খামারে লোকসান পোহাতে হচ্ছে। প্রায় অর্ধ শতাধিক খামারিরা এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। বুশরা পোল্ট্রি ফিড এন্ড চিকস্ এর সত্বাধিকারি আব্দুল বাছিত বলেন, পোল্ট্রি ব্যবসায় খামারে সঠিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরী। এই মুরগী পালন করতে হলে ভালো ভোল্টিজের খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের লো-ভোল্টিজসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকার কারনে সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। ফলে খামারিদের খামারে অধিক গরম বা অধিক ঠান্ডার কারনে মুরগী মারা যায়। তাই অনেকেই বিদ্যুৎ সমস্যার কারনে ছেড়ে দিচ্ছেন এই ব্যবসা।
রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কবিরাজি গ্রামের প্রক্তন শিক্ষক আব্দুল মান্নান তালুকদার ও ব্যবসায়ী রুবেল আহমদ বলেন, তাদের এলাকায় রয়েছে বাঁশ ও গাছের খুটিতে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন। যে কোন সময় খুটি ভেঙ্গে এলাকায় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের এলাকার গ্রাহকরা বার বার বিদ্যুৎ বিভাগসহ স্থানীয় সাংসদের কাছে লো-ভোল্টিজের সমস্যা ও লাইন সংস্কারের জন্য এই অঞ্চলকে প্রকল্পের আওতায় অন্তভুক্ত করে কবিরাজি গ্রামে একটি নতুন ট্রান্সফর্মার বসালে আমাদের গ্রামসহ আস পাশের পাঁচ- সাতটি গ্রামের লো-ভোল্টিজের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
কর্মধা ইউনিয়নের বাবনিয়া হাসীমপুর নিজামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা আহসান উদ্দিন বলেন, বাবনিয়াসহ আস পাশের অঞ্চলেও বিদ্যুতের লো-ভোল্টিজের করুন অবস্থা। সন্ধার পরই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পড়তে বসলে বিদ্যুতের এই আলোয় কিছুই দেখা যায় না। আমরা পিডিবি’র কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, লাইনগুলো সংস্কার করে এই এলাকার লো-ভোল্টিজের সমস্যার দূরীকরণ করবেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে জানতে কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুজাফর হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ