প্রচ্ছদ

প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের আটকে রেখে তল্লাশি : শমী কায়সারের ফোন চুরি

২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০২:০১

sylhetsurma.com

সিলেট সুরমা ডেস্ক :  জাতীয় প্রেসক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে বুধবার দুপুরে জনপ্রিয় অভিনেত্রী শমী কায়সারের দুটি স্মার্টফোন চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনায় তিনি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রায় আধা ঘণ্টা আটকে রেখে তল্লাশি করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের একপর্যায়ে চোর বলেও চিৎকার-চেচামেচি করেন।

পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের দায়িত্বপালনকারী এক ব্যক্তি স্মার্টফোন দুটি নিয়ে গেছেন। ওই দৃশ্য দেখার পর সাংবাদিকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন শমী কায়সার।

শমী কায়সার বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে। মুঠোফোন আমাদের সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

শহীদ সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারের সন্তান শমী কায়সার বর্তমানে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাংবাদিকদের হেনস্থা করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তাঁরা বলেন, শমী কায়সার দেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং শহীদ সাংবাদিককন্যা। তিনি যে আচরণ করেছেন তা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। তাঁরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সাংবাদিক সমাজের কাছে শমী কায়সার ক্ষমা চাইবেন বলে আশা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক সাংবাদিক জানান, বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটন বিষয়ক সাইট ‘বিন্দু৩৬৫’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন শমী কায়সার। তিনি ই-ক্যাবের সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শমী কায়সার জানান, তাঁর মোবাইল ফোন দুটি খুঁজে পাচ্ছেন না। এতে উপস্থিত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক হতভম্ব হয়ে পড়েন। এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

একপর্যায়ে শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মীরা মিলনায়তনের মূল গেট বন্ধ করে দেন। শমী কায়সার উপস্থিত সবার দেহ তল্লাশি করার কথা বললে সাংবাদিকরা তাতে সম্মতি দেন। দেহ তল্লাশি শেষে সাংবাদিকরা বের হতে চাইলে শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের ‘চোর’ বলে চিৎকার-চেচামেচি করেন। এতে সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকরা ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চোর শনাক্ত করার উদ্যোগ নেন। এতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের লাইটিংয়ের দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মী মোবাইল দুটি নিয়ে বের হয়ে যান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক এ আচরণের বিষয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ থেকে সব শ্রেণির নাগরিকরা আসেন। এখানে এসে এর আগে কেউ সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেননি। শমী কায়সার যত ক্ষমতাশালীই হোন আর যত জনপ্রিয়ই হোন, তাঁর এ কাজটি করা সঠিক হয়নি। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।

সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, শমী কায়সার শহীদ-কন্যা। তাঁর বাবাও দেশের একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক ছিলেন। তাঁর প্রতি আমাদের আলাদা একটি মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধাবোধ আছে। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা এর আগে কেউ জাতীয় প্রেসক্লাবে করেনি। আমি আশা করব তিনি প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইবেন।

  •  
  •