জৈন্তাপুরে দখল উচ্ছেদ অভিযান : বনজ সম্পদ কর্তন ও ঘরবাড়ীতে অগ্নি সংযোগ

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৬

জৈন্তাপুর সংবাদদাতা
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সরকারী ভূমি নিয়ে মালিকানা দাবীদারদের মধ্যে দখল নিয়ে গ্রামবাসী ও প্রশাসনের মূখামুখি অবস্থান। অতঃপর সরকারি ভূমি লীজ দাবিদার এম.আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানীর লালাখাল চা-বাগানের কাছে হন্তান্তর করলেন জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।  ভিটে মাটি ছাড়া হলেন ৪০টি হত দরিদ্র পরিবার। ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান প্রায় ২ কোটি। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের বাউরী টিলা লীজ গ্রহিতা এম.আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানীর লালাখাল চা-বাগান প্রশাসনের সহযোগিতায় লীজের ভূমি উদ্ধারে নামে। গ্রামবাসীরা দীর্ঘ শত বৎসরের ভূমিতে সৃজনশীল বাগান স্থাপন করে বাড়ি ঘরে বসবাসকারীরা বাঁধা প্রয়োগ করে। দখলকে কেন্দ্র করে কিছু সময় প্রশাসন ও গ্রামবাসী মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ-আলম চৌধুরী তোফায়েল, ইউপি সদস্য হাজির আলী, সমাজসেবী সুলতান আহমদ, আলতাফ হোসেন বেলাল ও গণমান্যদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট শাহিদুল আলম এর উপস্থিতিতে ৪০টি পরিবারের দখলে থাকা প্রায় ২৩ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়। ভুমি উদ্ধারের প্রক্কালে প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার উত্তর ধীরেন্দ্র মহাপাত্র, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সফিউল কবির, জৈন্তপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসার আব্দুর রহিম, লালাখাল চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সৈয়দ মহি উদ্দিন, সহকারী ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান, প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ফোর্স ও বাগানের কর্মচারীবৃন্দ। লীজ গ্রহিতার ভূমি উদ্ধার করে এম.আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানীর লালাখাল চা-বাগানের সাইনবোর্ড সাঁটানোর মধ্যে দিয়ে প্রশাসনের পক্ষে দখল সমঝিয়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার কালে সৃজিত বাগানের সকল গাছ বৃক্ষ কেটে ফেলা হয় এবং বসত ঘর পুড়ে দেওয়া হয়। এতে ৪০টি পরিবারের প্রায় ২কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয় মর্মে এলাকাবাসী প্রতিবেদককে জানান।
এবিষয়ে চারিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ-আলম চৌধুরী তোফায়েল জানান, এখানে ইতোপূর্বে লালাখাল চা-বাগান ভূমি বন্দেবস্ত গ্রহন করে। এক পর্যায়ে তারা রেন্ট পরিশোধ করতে ব্যার্থ হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ সরকারী ভূমিতে বাগান সৃজন করে এবং ভূমি বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করা হয়। বর্তমানে সৃজিত বাগান ধ্বংস হওয়ায় ৪০টি পরিবারে প্রায় ২কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন ভুমি হতে ফলজ ও বনজ সম্পদ এবং বাড়ী ঘরে অগ্নি সংযোগ না করে তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে দিলে হতো। তাতে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান কম হতো। তিনি উপযুক্ত ক্ষতিপুরনের জন্য এম.আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানীর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আর্কষণ করছেন।
এবিষয়ে এম.আহমদ টি.এন্ড.ল্যান্ড কোম্পানীর সহকারী ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান বলেন, বিরুধপূর্ণ ভূমিটি লালাখাল চা বাগানের একটি অংশ। দীর্ঘ দিন হতে এলাকার লোকজন নানান ভাবে ভোগ দখল করে আসছিল। মৌখিক ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে একাধিক বার তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হলেও তারা দখল ত্যাগ করেনি। তাই আদালতের মাধ্যমে গতকাল নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর উপস্থিতিতেই শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভুমিটি এম.আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানীর লালাখাল চা-বাগানের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা হয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ জানান, জমিটি উদ্ধার করতে জেলা প্রশাসক হতে সরাসরি একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ করা হয় এবং উনার উপস্থতিতেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ভূমির প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমি শুধু নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে পর্যবেক্ষন করেছি।
এবিষয়ে জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট শাহিদুল আলম জানান, এম.আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলার সমন্বয় সভা হতে উচ্ছেদের প্রস্তাবটি জেলা পরিষদে প্রেরন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের আইন শৃংখলা বৈঠকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। তারই প্রেক্ষিতে শান্তিপূর্ণ ভাবে উচ্ছেদ পরিচালানা করা হয়েছে এবং ভূমির প্রকৃত মালিককে জায়গা সমঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ