• ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

দিরাইয়ে অনলাইন জুয়ার গ্রাস, বাড়ছে অপরাধ

sylhetsurma.com
প্রকাশিত জুন ৪, ২০২৬
দিরাইয়ে অনলাইন জুয়ার গ্রাস, বাড়ছে অপরাধ

Manual2 Ad Code

স্মার্টফোন ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতার কারণে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

Manual2 Ad Code

পৌর শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামীণ বাজার পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে অনলাইন বেটিং, লুডু বাজি ও বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে তরুণ ও যুব সমাজের একটি অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

মোবাইল ফোনভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে এখন ক্রিকেট, ফুটবল, এভিয়েটর গেম, আইপিএল বেটিংসহ নানা খেলায় অর্থের বাজি ধরা হচ্ছে। এমনকি জনপ্রিয় লুডু খেলাও অনলাইন জুয়ার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন টাকা দিয়ে লুডু খেলার প্রবণতা বাড়ছে। অভিভাবকদের দাবি, বিনোদন হিসেবে শুরু হলেও এটি ভয়াবহ আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই অনলাইন জুয়ার আসর এখন শুধু পৌর শহরেই সীমাবদ্ধ নেই গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকান, মুদি দোকান কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের দোকানের ভেতরেও বসছে। বাইরে থেকে সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনে হলেও ভেতরে মোবাইল ফোনের পর্দায় চলছে হাজার হাজার টাকার বাজি। দুপুরে চা খাওয়ার অজুহাতে, রাতে দোকান বন্ধের পরও নির্দিষ্ট কয়েকজন জড়ো হয়ে জুয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব চলছে।

সরেজমিনে পৌর শহরের উপজেলা রোড, থানা সংলগ্ন সেন মার্কেট, কলেজ রোড, ইউপি রোড ও হাইস্কুল রোড এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী মানুষ মোবাইল ফোনে অর্থের বিনিময়ে লুডুসহ নানা অনলাইন গেম খেলছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রমের একটি বড় অংশ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একই চিত্র উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার ও আড্ডাস্থলগুলোতেও।

Manual1 Ad Code

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় অনেকে প্রথমে বন্ধু বা পরিচিতদের মাধ্যমে এসব অ্যাপে যুক্ত হন। শুরুতে সামান্য লাভ দেখালেও পরে অধিক লাভের আশায় বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে প্রচুর ক্ষতির মুখে পড়েন অনেকে। একপর্যায়ে ধারদেনা বা পরিবারের অজান্তে টাকা সংগ্রহ করে এসব কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

Manual4 Ad Code

অভিভাবক সুমন চৌধুরী বলেন, অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক পরিবার নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর দাবি, এলাকার কিছু স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানরা জুয়ার নেশায় বিপুল অর্থ হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ ঋণের চাপ সামলাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, আবার কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তবে তাঁদের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝার চাপ পরিবারের ওপরই পড়ছে।

দিরাই সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, তরুণদের মধ্যে অনলাইন আসক্তি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি মনে করেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ প্রবণতা রোধ কঠিন।

দিরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার বলেন, অনলাইন জুয়ার বিস্তার এখন সামাজিক সমস্যায় রূপ নিচ্ছে। শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও সমাজের সচেতন মহলের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্র বলছে, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কিছু তরুণ চুরি, ছিনতাই এমনকি ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, তবে বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক ও অপরাধমূলক সংকট তৈরি করতে পারে।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, অনলাইন জুয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজীব সরকার বলেন, তরুণ সমাজকে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

Manual7 Ad Code