সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান

প্রকাশিত: ১১:৫০ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০১৭

সিলেট সুরমা ডেস্ক : নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল-ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবিটি) সিলেটভিত্তিক একটি বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ নেটওয়ার্কের অন্তত ৩০ জন সদস্যের একটি তালিকা এখন সিটিটিসির হাতে। সিটিটিসির দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার এমন সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক যুগান্তর। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তালিকার বেশির ভাগ সদস্য শাহজালালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র। সিলেট অঞ্চলের কয়েকটি স্বনামধন্য কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও আছে। বেশির ভাগই অভিজাত পরিবারের সন্তান। আছে সাবেক পুলিশ সদস্য, ডাক্তার, অ্যাডভোকেট, প্রবাসী এবং ব্যবসায়ীর সন্তানও। এ তালিকার সূত্র ধরেই সোমবার রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে এবিটির সামরিক শাখার আইটি প্রধান আশফাক-উর-রহমান ওরফে অয়ন ওরফে আরিফ ওরফে অনিককে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা মেজর (চাকরিচ্যুত) জিয়ার বাড়ি সিলেট এলাকায়। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই আশফাকসহ সিলেটভিত্তিক এ নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যরা সক্রিয় হয়। সিটিটিসিকে আশফাক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। তার ৫ দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। এরই মধ্যে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছে। রিমান্ড শেষে সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, শাহজালালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র আশফাক। তার বাবা খিজির উদ্দিন অবসরপ্রাপ্ত জাহাজচালক (ক্যাপ্টেন)। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার নরউত্তমপুর গ্রামে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। বড় ভাই আসিফ-উর-রহমান ব্যাংক এশিয়ায় একটি বড় পদে চাকরি করেন। তিনি ঢাকাতেই থাকেন। বোন সিফাত-ই-জাহান একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা আমেনা বেগম চট্টগ্রামে একটি হাসপাতালে চাকরি করেন। গ্রেফতারের ভয়ে গত ছয় মাস ধরে আশফাক কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বিচ্ছিন্ন। ছয় মাস প্রাণান্তকর চেষ্টার পর সিটি তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আশফাক ছাড়া ৩০ জনের তালিকার আরও বেশ কয়েকজনের নাম পরিচয় সিসিটিসি সূত্র নিশ্চিত করেছে বলে যুগান্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে রয়েছে- কেএম মোহাইমিনুল ইসলাম ওরফে শাহেল, আবদুল আজিজ, ইফফাত আহমেদ চৌধুরী ওরফে নাহিদ, সাদমান আবেদীন ওরফে নিলয়, মামুন হোসেন ওরফে আকিব, মাহমুুদুল কবির চৌধুরী, ইব্রাহিম বিন মোল্লাহ মোশাররফ, মেহেদী হাসান অমি, সালমান, ইউনুস, ওসমান, ফারুক, আবদুর রহমান, রাশেদ, সায়মন প্রমুখ। কেএম মোহাইমিনুল ইসলাম ওরফে শাহেল সিলেট অঞ্চলে এবিটির প্রধান হিসেবে কাজ করে। তার বাবা কেএম আবদুল গনি পুলিশের এসআই ছিলেন। বাড়ি সিলেট বিয়ানীবাজারের খামারীপাড়া গ্রামে। সে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সিএ’ পড়াশোনা করে। আবদুল আজিজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায়িক উৎপাদন বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষা বর্ষের ছাত্র। বাবা আবদুল বসির দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। তার বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার পারুলা লাভাপাড়া গ্রামে। আজিজের অধীনে এবিটির ১০-১২ জন সদস্য কাজ করে। নাহিদের বাড়ি সিলেটের মিরাবাজারে। তিনিও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায়িক উৎপাদন বিভাগের ছাত্র। তার বাবা খালেদ আহমেদ চৌধুরী গাড়ির যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী। নাহিদের অন্তত দু’জন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর খোঁজ পেয়েছে সিটিটিসির গোয়েন্দারা। সাদমান আবেদীন ওরফে নিলয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র। তার বাবা মো. জয়নাল আবেদিন এমবিবিএস ডাক্তার। তার স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের কুসুরবাগ আবাসিক এলাকায়। আকিবের বাবা গানু মিয়া একজন প্রবাসী। গ্রামের বাড়ি সিলেট গোলাপগঞ্জের ফুলসাইন গ্রামে। সে লিডিং ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। মাহমুদুল কবির চৌধুরীর বাবা হাসনু চৌধুরী একজন অ্যাডভোকেট। তার বাড়ি সিলেটের জালালাবাদে। ইব্রাহিম বিন মোল্লাহ মোশাররফ একজন এমবিবিএস ডাক্তার। তার বাসা রাজধানীর কল্যাণপুরে। সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) বিভাগের ছাত্র। এর আগে সে সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। ওই সময় সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। মেহেদী হাসান অমিরের বাবা মমতাজ হাসান শিবলী একজন মিষ্টি ব্যবসায়ী। তার বাসা সিলেট কোতোয়ালি থানার আম্বরখানা এলাকায়। অমিরের হাত ধরেই একাধিক ব্লগার-লেখক হত্যাকাণ্ডে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া সিফাত জঙ্গিবাদে জড়ায় বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে সিটিটিসি। সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জাহিদুল হক সরকার বলেন, সিলেটভিত্তিক ওই জঙ্গি নেটওয়ার্কের সব সদস্যই এবিটির। এবিটির মূল নেতা পলাতক মেজর (চাকরিচ্যুত) জিয়া। তার বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজারে। এলাকার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে মেজর জিয়া সেখানে একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতার কারণে তারা এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ওই নেটওয়ার্কের প্রত্যেক সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে সিটিটিসি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।সূত্র : যুগান্তর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ