চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় চাঁদাবাজি মামলার আসামি!

প্রকাশিত: ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০২১

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় চাঁদাবাজি মামলার আসামি!

সিলেট সুরমা ডেস্ক :
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বালু বহাল থেকে রয়্যালিটি আদায় নিয়ে এবারও বিরোধ দেখা দিয়েছে। গত বছর রয়্যালিটির নামে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে একাধিক ঘটনা ঘটে। এবারও শুরু হয়েছে একই অবস্থা। তবে এবার নদীতে নয়, তীরে রাখা গতবারের বালু থেকে অবৈধভাবে রয়্যালিটি আদায় করার অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে দুটি পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। ইজারাদার পক্ষের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে রেকর্ড করা হয়। মামলা নং- ০৩, তাং- ০৩.০৬.২০২১ইং। তবে অপর পক্ষের অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে রুজু হয়নি।
জানা গেছে, ধলাই নদীর কালাসাদক ও তৈমুর নগর মৌজা এলাকার বালু মহালের ইজারা পান মেসার্স তুহিন কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার দেব। তারা রয়্যালিটি আদায়ও শুরু করেন। এ অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে ইজারা বহির্ভূত জায়গায় টোল বসিয়ে মজুদ করা বালু বহনকারী ট্রাক থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ঝামেলার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফু ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও বিরোধ দেখা দেয়। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্বাস আলী বাদি হয়ে আলফু চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। এর আগে একই ঘটনায় আলী আব্বাছ নামের এক বালু ব্যবসায়ী তার বালু বহনকারী ট্রাক থেকে ১ হাজার টাকা করে রয়্যালিটির নামে অবৈধভাবে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে উপজেলার ভোলাগঞ্জ গ্রামের রইছ আলীর ছেলে আব্বাছ আলী, বর্ণি গ্রামের চেরাগ আলীর ছেলে করম আলী, একই গ্রামের মৃত মাহমদ আলীর ছেলে আজির উদ্দিন সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তার মামলাটি এখনও নথিভূক্ত হয়নি।
আলী আব্বাস জানান, গত বছর নিয়ম অনুযায়ী রয়্যালিটি প্রদান করে ধলাই সেতুর উত্তর পার্শ্বে বিক্রির জন্য বালু মজুদ করা হয়। সেখান থেকে ট্রাকযোগে বালু পরিবহন শুরু করলে ইজারাদার পক্ষের লোকজন রয়্যালিটির নামে চাঁদা দাবি ও মারধর করে। অপরদিকে আব্বাস আলী দাবি করেন, তারা ইজারা বহির্ভূত জায়গা থেকে রয়্যালিটি নিচ্ছেন না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরশাদ মিয়া বলেন, ইজারাকৃত বালুমহালের বাহিরের অংশে মজুদ করা বালু থেকেও রয়্যালিটি আদায় করার অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। তখন ইজারাদার পক্ষের লোকজন তা অস্বীকার করে। পরবর্তীতে আবারও খবর পাই ইজারাদার পক্ষের লোকজন মজুদ করা বালু থেকে রয়্যালিটি আদায় করছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে.এম নজরুল জানিয়েছেন, ইজারাদার পক্ষে একটি মামলা হয়েছে। অপর পক্ষের অভিযোগটির তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে মামলা রুজু করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ