জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের সরুখেল গ্রামে শিবির নেতা মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের দুর্বৃত্তদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। মাহবুবুর রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী। গত শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে তার বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা স্বর্ণ, নগদ টাকা, টিভি এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লন্ডন প্রবাসী মাহবুবুর রহমানের বাড়ির মালামাল লুট ও ভাংচুর করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫-১৬ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলাকারীদের সম্পর্কে প্রবাসীর পরিবার জানায়, তারা বর্তমান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও বিএনপির উপজেলা সাধারণ সম্পাদকের লোকজন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতা বর্তমান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সুলতান করিমের মেয়ে মাইসা করিমের সাথে প্রায় দুই বছর আগে মাহবুবুর রহমানের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলো। এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় বিয়ের দুই দিন পর মাইসা আত্মহত্যা করেন। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় মাহবুবুর রহমানের পরিবারকে হামলা ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়। ইতিপূর্বে মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হওয়ায় এবং তিনি প্রবাসে থাকায় এই হামলা হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। মাহবুবুর রহমানের উপর ক্ষোভের কারণেই সুলতান করিমের ইন্ধনে তাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রবাসীর ছোট ভাই জানান, আমি (মাসরুর আহমেদ) আর আমার আম্মু বাড়িতে ছিলাম। তারা ১২-১৩ জন ছাত্রদলের নেতা হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। আমাকে প্রচন্ড মারধর করে এবং আমার আম্মুকে শারীরিকভাবে অনেক আঘাত করে। আমার আম্মু হার্টের রোগী। লুটপাট এর সময় তারা বলতে থাকে , ‘তোর ভাই মাহবুব ঐ দিন বেঁচে গেছে, শালারে এইবার পাইলে একদম খতম করে ফেলবো ‘
এছাড়াও তিনি আরো জানান, “১৫ জানুয়ারি ২০২৩ আমার ভাই মাহবুবুর রহমানের উপর প্রচন্ড আক্রমণ হয়েছিল। ঐদিন আমার ভাই মৃত্যু সহ্যায় চলে গিয়েছিল। তখন আমরা ভেবেছিলাম আওয়ামীলীগ এই হামলা চালিয়েছে, কিন্তু এখন জানলাম সুলতান করিমই এই হামলা করিয়েছে।”
ঘটনার পরপরই তাদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়া ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা আমলে নেয়নি। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিবির নেতার পরিবার।
এ বিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামানের সাথে বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এই ঘটনায় এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।