বিরোধীদলের পতন শুরু হয়েছে, ১১ দল এখন ৯ দলে গিয়ে ঠেকেছে: রাশেদ খান

sylhetsurma.com
প্রকাশিত জুলাই ২৭, ২০২৬
বিরোধীদলের পতন শুরু হয়েছে, ১১ দল এখন ৯ দলে গিয়ে ঠেকেছে: রাশেদ খান

Manual2 Ad Code

বিরোধী রাজনৈতিক জোটের পতন শুরু হয়েছে এবং তাদের ১১ দলীয় জোট ভেঙে এখন ৯ দলে এসে ঠেকেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খান।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সরকার পতনের হুমকির কড়া জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

Manual3 Ad Code

শনিবার (২৫ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও অলি আহমদের রাজনৈতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন গত নির্বাচনের আগে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এই নেতা।

Manual8 Ad Code

ঘটনার সূত্রপাত সিলেটে আয়োজিত ১১-দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে। ওই সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, “আজকে যদি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম এবং শায়খুল হাদিস মাওলানা মামুনুল হক—এই তিন নেতা এক হলে এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে। সরকার পালানোর কোনো পথ পাবে না।”

অলি আহমদ আরও দাবি করেন, এই তিন নেতা একজোট হলে যে-কোনো সময় ঢাকায় ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটাতে সক্ষম হবেন এবং টঙ্গী, সায়েদাবাদ ও মিরপুরের প্রধান প্রধান সড়ক বন্ধ করে দিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, “আপনি কোন দিকে দেশে থাকবেন? আপনাকে এটা বুঝতে হবে। আপনি অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। দেশের মানুষের কথা ভেবে চিন্তা করেন। মানুষ চিরদিন বেঁচে থাকবে না। মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে, টাকা দিয়ে নয়।”

Manual8 Ad Code

অলি আহমদের এই বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা জবাব দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খান। কর্নেল অলির বক্তব্যকে উদ্দেশ করে তিনি নিজের স্ট্যাটাসে লেখেন, “ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ছোট ছেলে নাহিদ ইসলাম (আজকে এই নামে কর্নেল অলি আহমেদ ডেকেছে), মাওলানা মামুনুল হক এক হয়ে রাস্তায় নামলে ১ সপ্তাহের মধ্যে নাকি বিএনপি সরকারের পতন হবে! আজকে এমন একটি মন্তব্য করেছেন কর্নেল অলি আহমেদ। হঠাৎ এক হওয়ার কথা কেন? সবাই বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে এজন্য?”

বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক ভাঙনের হিসাব তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, “দেখেন, ঠিক আজকেই খেলাফত মজলিস জোট ছেড়ে বের হয়ে গেছে। খেলাফত আন্দোলন বের হওয়ায় আগে ছিল ১০ দল, এখন হলো ৯ দল। ১১ দলীয় জোট এখন ৯ দলীয় জোটে পরিণত হয়েছে।”

অলি আহমদের রাজনৈতিক কৌশল ও জামায়াতপ্রীতির দিকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খান লেখেন, “দেখেন, কর্নেল অলি আহমেদ আজকের বক্তব্যে তার নিজের নামটা মুখে নিলেন না! কিন্তু তিনি তো জামায়াতের আমিরের চেয়েও বড় নেতা! জানি না, বনিবনা না হলে, কবে আবার তিনিও জামায়াত থেকে বের হয়ে যান। তিনি বিএনপির সাথে সম্পর্ক খারাপ করেছেন প্রত্যাশিত আসন না পেয়ে। বিএনপি বেশি আসন ছাড় না দেওয়ার মূল কারণ ছিল, ঐসব আসনে এলডিপিকে ছাড় দিলে সেখানে জামায়াত জিতে যেতো। আজকাল সন্দেহ হয়, জামায়াতকে বেশি আসনে জেতাতে ঐ পলিসি কর্নেল অলি আহমেদ নিয়েছিলেন কি না! কারণ তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অর্জনকে বিসর্জন দিয়ে জামায়াতের সাথে গিয়েছেন।”

অলি আহমদ কারোর চক্রান্তে পা দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্ন তুলে বিশেষ সহকারী তার স্ট্যাটাসের শেষে লেখেন, “নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে, আওয়ামী লীগের সময় গোয়েন্দা সংস্থার প্রডাক্ট মাসুদ করিমের ফাঁদে পড়েছিলেন কর্নেল অলি আহমেদ। এখন আবার কার ফাঁদে পড়ে বিএনপি সরকারের ১ সপ্তাহের মধ্যে পতনের হুমকি দিচ্ছে, জানি না! তবে ইতোমধ্যে বিরোধীদলের পতন শুরু হয়েছে, ১১ দল এখন ৯ দলে গিয়ে ঠেকেছে!”

Manual1 Ad Code