মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এরপর থেকে আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার ক্ষোভের বলি হচ্ছেন আওয়ামী লীগের এমপি, মন্ত্রী, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে কারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কারো ঘর-বাড়ি। কেউ কেউ হারাচ্ছেন প্রাণ। অনেক নিরঅপরাধ মানুষের প্রাণ হানির ঘটনা ঘটছে। গত পনের বৎসরের নির্যাতন নিপীড়নের ক্ষোভ যেন আর থামছে না মানুষের। প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাত্র জনতার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে তৌহিদী জনতা ও ছাত্র সমন্বয়করা মিছিল সহকারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আহমদ শরীফ দেলোয়ারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ববি ফার্মেসি, ডায়গনস্টিক সেন্টার এবং ব্রিকফিল্ডে আক্রমণ করে ভাঙচুর করে। গত ৫ আগস্ট থেকে স্বপরিবারে পলাতক এই আওয়ামী লীগ নেতার বন্ধ থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র জনতা ভাঙচুর করে এবং তার বাড়িতে গিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।
এরপর মিছিল সহকারে আহমদ শরীফ দেলোয়ারের ব্রিক ফিল্ডের ড্রাইভার করমপুর গ্রামের আব্দুল হাসানের বাড়িতে আক্রমণ করা হয়। ড্রাইভার আব্দুল হাসানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ারের নির্দেশে অনেক অবৈধ ও অসামাজিক কাজ পরিচালনা করেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ারের নির্দেশে তার ব্রিক ফিল্ডেরই এক কর্মচারী জয়নাল আহমদকে হত্যার পলাতক আসামি আব্দুল হাসান; এমন অভিযোগ ছাত্র জনতা ও সমন্বয়কদের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ড্রাইভার আব্দুল হাসানসহ তার পরিবার আগে থেকেই পলাতক। ছাত্র সমন্বয়ক ও তৌহিদ জনতা খালি বাড়ি মনে করে ভাঙচুরের পর সেখানে আগুন লাগিয়ে দেয়। এসময় বাড়িতে আশ্রিত থাকা একটি পরিবার আগুনে আক্রান্ত হয় এবং একটি কন্যা শিশু মারা যায়। নিহত শিশুটি করমপুর গ্রামের রিক্সা ড্রাইভার ফরিজ উদ্দিনের মেয়ে।
হামালা-আগুনের সময় শিশু মৃত্যুর ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ূম।
ওসি বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে জনরোষ থামিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে আমরা দিন-রাত কাজ করছি।