সিলেটের আলোচিত বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই

sylhetsurma.com
প্রকাশিত এপ্রিল ৭, ২০২৫
সিলেটের আলোচিত বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই

Manual8 Ad Code

নাঈম আহমেদ, ব্রাডফোর্ড, যুক্তরাজ্য ::: সিলেটের আলোচিত সরকারি দেড়শত একর ভূমি দখলদার হিসেবে অভিযুক্ত সিলেট জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনসহ বিতর্কিতদের নিয়ে অনেকটা বেকায়দায় সিলেট বিএনপি।

Manual3 Ad Code

গতকাল শনিবার সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় এই ইস্যুতে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে নেতৃবৃন্দকে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিলো তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্বেও সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বা জেলা বিএনপি কারণ দর্শানোর নোটিশ ও তদন্ত কমিটি করে দিলেও মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও কেন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা কিংবা কেন তাকে দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। জবাবে বিএনপি নেতৃবৃন্দ শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় শৃখলা ভঙ্গকারী ও সুনমা নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। তিনি জানান, সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষপর্যায়ে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে তা দলের হাইকমান্ডকে অবহিত করা হবে এবং হাইকমান্ড যে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিবে-আমরা তাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Manual8 Ad Code

জুলাই বিপ্লবের পর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠার পর গত ১৮ মার্চ সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে শোকজ করা হয়। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য জবাব দিতে না পারলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ বিষয়ে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর কাছে জানতে চান।

Manual3 Ad Code

উল্লেখ্য, দেশের সবচেয়ে বড় পাথর কোয়ারী ভোলাগঞ্জে। কোয়ারীর পাশে সরকারের অন্তত ২৭৫ একর উন্মুক্ত জায়গা আছে। ২০০১ সালের দিকে এসব জায়গার দখল নেন স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন। এর মধ্যে সাহাব উদ্দিনের দখলে চলে যায় অর্ধেকের বেশি জমি। পাশে কোয়ারি থাকায় দখলকারীরা জায়গাগুলো পাথর ভাঙার মেশিনের মালিকদের কাছে ভাড়া দেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে সরকারি জায়গা দখল করে ভাড়া দিয়েছে সাহাব উদ্দিন। বিগত সরকারের শেষের দিকে দুই বছর আগে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে।

Manual5 Ad Code

গত ৫ আগস্ট পরবর্তিত পরিস্থিতিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে ১০ নম্বর সাইট এলাকায় সরকারি শতাধিক জমি দখলের অভিযোগ ওঠে সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে লাখ লাখ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর টনক নড়ে দলের।