স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জে জেলার নবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৪ জন। গতকাল শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকালে নবিগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার এনাতাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত হন এনাতাবাদ গ্রামের মৃত মোঃ আলা উদ্দিন এর ছেলে ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমেদ (২৫) ও তার বড় ভাই আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ তালেব উদ্দিন (৩৭), বিএনপি নেতা সাজিদ উল্লাহ এর ছেলে বতল মিয়া (৩৫), ও গ্রামের কামরুল ইসলাম এর ছেলে হারিছ চৌধুরী (৩০)।
জানাযায়, এনাতাবাদ গ্রামের মৃত মোঃ আলা উদ্দিন মিয়ার পরিবারের সাথে বিএনপি নেতা সাজিদ উল্লাহ এর ছেলে বতল মিয়া ও আকল মিয়ার ছেলে চুনু মিয়া জমি নিয়ে বিরোধ হয়। (আমাদের কাছে সংরক্ষিত কাগজপত্র অনুযায়ী) তফসিল বর্ণিত ভূমিটি ফটির উল্লার ছেলে মৃত মোঃ আলা উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন এবং মুকত আলীর ছেলে আরশ আলী ও হাকিম উল্লার ছেলে জবান উল্লাহ নামীয় রেকর্ডিয়। যার খতিয়ান নং-৭৩, জেএলনং- ৯৬, মৌজা- এনাতাবাদ, থানা- নবীগঞ্জ, ও জেলা- হবিগঞ্জ। উক্ত খতিয়ানে মোট সম্পত্তি ৯০ শতাংশ।
একই মৌজার আরকটি খতিয়ানে বর্ণিত ভূমি ফটির উল্লার ছেলে মোঃ আলা উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন এর নামীয় ১৪ শতাংশ ও খতিয়ান নং-৭২।
অনুসন্ধানে জানাযায়, মৃত মোঃ আলা উদ্দিন মিয়া পরিবার দীর্ঘদিন হতে জায়গাটির ভোগদখল করে আসছেন এবং জায়গাটি উত্তরাধিকার সুত্রে তাদের নিজ নামীয় দলীল ও রেকর্ডীয় মালিক। কিন্তু ৫ই আগস্ট হাসিনা সরকার পালানোর পর অপর পার্টি বতল মিয়া ও চুনু মিয়া বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়ায় ও তারা ভূমি খেকো ও প্রভাবশালী লোক হওয়ায় এ ঘটনা ঘটায়। জায়গার মালিক মোঃ আলা উদ্দিন। তিনি মারা গেলে তার ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ তালেব উদ্দিন ও ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমেদ সুহান এর দখলে পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে ভোগ দখল করেন। কিন্তু তারা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কারণে তাদের জায়গা দখল ও সংঘর্ষ হয়েছে এমন তথ্য ফুটে উঠেছে অনুসন্ধানে। ছাত্রলীগনেতা রুহেল আহমেদ সুহান ৯ আগস্টে আহত হওয়ার পর মোটামুটি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আত্নগোপনে থাকেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি আত্নগোপনে থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, জমিটি মৃত মোঃ আলা উদ্দিন ও তার ভাইয়ের। তার ছেলে রুহেল আহমেদ সুহান রাজনীতি করার অপরাধে প্রতিপক্ষ প্রভাব খাঁটিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে এলাকাকে অশান্ত করেছে। আশংকা করা হচ্ছে যে কোন সময় বড় ধরনের কোন কিছু ঘটবে। জমিতে বতল মিয়া ও চুনু মিয়া লোকজন নিয়ে বাঁশের বেড়া করতে যান। এতে বাধা দেন মৃত মোঃ আলা উদ্দিন মিয়ার পরিবারের লোকজন। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথার কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বতল মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত ৪ জন।
অভিযুক্ত বতল মিয়া বলেন, আমার জায়গায় বাঁশ দিয়ে জায়গা আলগ করতে গেলে বাধা দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় মৃত মোঃ আলা উদ্দিন মিয়ার পরিবার ও লোকজন। এ ঘটনার বিচার চান তিনি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগনেতা তালেব উদ্দিন বলেন, আমি ও আমার ভাই আওয়ামিলীগের রাজনীতি করার কারণে আমাকে ও আমার ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমেদ সুহান এর প্রতিশোধ নিতে বিরোধী পক্ষ জায়গা দখলের নামে আমাদের উপর হামলা করেছে। তারা আমাদেরকে দেখে নেবার হুমকি দেয়। আমরা জমি দখল করতে নিষেধ করার কারণে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনার তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করছি। আপনারা প্রয়োজনে আমাদের কাগজপত্র দেখেন। আমার ভাই রুহেল আহমেদ সুহান আহত হয়ে ভালো ভাবে চিকিৎসা না নিয়ে আত্নগোপনে আছে। আমাদের নিরাপত্তার ভয়ে কোথায় আছে বলা যাবে না।
নবীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।