ফেঞ্চুগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারে আক্রমণ ও মন্দিরে লুটপাট, আহত বেশ কয়েকজন

sylhetsurma.com
প্রকাশিত অক্টোবর ১১, ২০২৪
ফেঞ্চুগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারে আক্রমণ ও মন্দিরে লুটপাট, আহত বেশ কয়েকজন

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিনিধি : এবার লুটপাট ও আক্রমণের স্বীকার হয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামে কটালপুর বাজার সংলগ্ন শ্রী শ্রী দূর্গামন্দিরের মালামাল ও হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবার। গতকাল ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়।
সরেজমিন জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামাতের রকিব আলীর নেতৃত্বে অন্তত ১৫/২০ জন কর্মী লাঠিসোটাসহ মিছিল নিয়ে দূর্গামন্দিরে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এসময় মন্দিরের পূজারিসহ কয়েকজন তাদেরকে বাধা দিলে হামলাকারীরা মারধর করে এবং মন্দিরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি লুটপাট করে। পরে তারা মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দেয়। হামলায় আহত হন পূজারিসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন। মন্দিরের অনেকাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। পরে হামলাকারীরা মন্দিরের পার্শ্ববর্তী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নান্টু পালের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা নান্টু পালের ঘরে ঢুকে প্রতিটি কক্ষ ভাঙচুর করে। নান্টুপালের পুত্র চয়ন পালকে খুঁজতে থাকে। ঘরের ভেতরে থাকা টিভি, ফ্রিজ ভেঙে ফেলা হয়। এ ছাড়া আলমারিতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা। এতে নান্টু পালের স্ত্রী বাধা দিলে উশৃঙ্খল উগ্র মৌলবাদীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। নান্টু লালের স্ত্রী হাফ প্যারালাইস রোগী। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে মৌলবাদ সন্ত্রাসীরা নান্টু পালের বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। ধামকি দিয়ে যায় চয়ন পালকে যেখানে পাবে প্রাণে হত্যা করবে। হামলাকারীরা চলে গেলে স্থানীয় লোকজন নান্টু পালের স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপতালে নিয়ে যান। তিনিসহ আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ধরনের হামলায় আতংকে ভূগছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন। তাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পর্যাপ্ত পরিমান বাহিনী না থাকায় পুরো থানা এরিয়া জুড়ে নিরাপত্তা দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কোন অভিযোগ এখনও তারা পাননি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।