স্টাফ রিপোর্টার ::: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুসনে আরা। রোববার দুপুর ১২ টায় নগরীর মীরের ময়দান ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তিনি।
জানা গেছে, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি ব্লু বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিলেটের জেলা প্রশাসক। বিগত দিনে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম থাকলেও নানা কারণে তা এখন তলানিতে পৌঁছে গেছে অভিযোগ অভিভাবক ও সচেতন মহলের। ২০১১ সালে ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বেগম সুলতানা রুহিকে সরিয়ে হুসনে আরাকে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। দায়িত্ব পেয়েই ক্রমশ শিক্ষকদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ, নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে হুসনে আরার বিরুদ্ধে। শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতি করণের চেয়ে বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে বেশি এমন অভিযোগ শিক্ষকদেরও। যে কারণে আগের তুলনায় শিক্ষার মানের দিকে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে যাওয়ায় অভিভাবক মহলেও ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রোববার তা প্রকট আকার ধারণ করে। এদিন সকাল থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্ররা কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে স্কুল ও কলেজের ছাদে অবস্থান নেযন। এ সময় হ্যান্ড মাইকে অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবি জানায় তারা। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ হুসনে আরার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টতা এবং অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রবেশ করে অধ্যক্ষকে তার নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সাদা কাগজে পদত্যাগপত্র লিখে অন্য শিক্ষকদের কাছে দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন।
এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক দীপক কান্তি চৌধুরী বুলবুল, সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আরিয়ান ইসলাম ভূঁইয়া এবং গাড়িচালক মো. আক্তার হোসেনকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে তাড়া করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন বিক্ষোভকারী এক দল শিক্ষার্থী। এসময় তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়।
ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সুবর্ণা সরকার বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হচ্ছেন, এমন খবর ছিল। তবে অধ্যক্ষ পদত্যাগের লিখিত কপি তার কাছে রোববার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পৌঁছায়নি।