শাহ জুবায়ের রহমান নাজু, মোঃ ফরহাদ হোসেন, মুক্তার হুসেন, সজল চৌধুরী। (গ্রেফতারকৃত ৪জন আসামী উপরে বাঁ থেকে)
এনামুল হক নাদির, মোঃ সামিউল হক চৌধুরী, মিনহাজ হোসেন। (নিচে বাঁ থেকে ৩ জন পলাতক আসামী)
হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা, ভাঙচুরসহ ফ্যাসিবাদের অভিযোগের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আদালতের একটি সূত্র জানায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হবিগঞ্জের পৌরসভার টাউন হল রুপালী ম্যানশনের সামনের রাস্তায় ২/০৮/২৪ তারিখ বিকেল ৩ ঘটিকায় এবং সিনেমা হল রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্য্যালয়ের সামনে একই তারিখ বিকেল ৪ ঘটিকায় এজহার নামীয় আসামীগণ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কতিপয় ছাত্রকে ধাওয়া করে। উক্ত হামলায় অনেকে আহত হন। এ নিয়ে হবিগঞ্জ সদর থানায় দ্রত বিচার আইন ২০০২ মূলে পৌরসভার আব্দুল মনাফের পুত্র তাহির মিয়া একটি মামলা দায়ের করেন। যার (থানার মামলা) নং- ৭। জিআর মামলা নং-৩৪ এবং তারিখ- ২৪/০২/২০২৫। এ মামলায় মোট ১৯ জনকে এজহার নামীয় এবং ১০০/১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা করা হয়। ইতিপূর্বে মামলার অভিযোগ পত্র আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ পত্র নং-২৮। এজাহার নামীয় ১২ জন আসামীকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গা হতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং অপর সাতজনের বিরুদ্ধে গত ২ এপ্রিল বুধবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ওইদিন রাতেই তাদের চারজনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এজহার নামীয় ৩ নং আসামী শাহ জুবায়ের রহমান নাজু (হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক), ৫ নং আসামী মোঃ ফরহাদ হোসেন (যুবলীগ নেতা), এবং ১৭ নং আসামী মুক্তার হুসেন (সহ সাধারণ সম্পাদক, আজমীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ), ১৮ নং আসামী সজল চৌধুরী (চুনারুঘাট থানা ছাত্রলীগ নেতা) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে
মামলার শুরু থেকে পলাতক আছেন, ৮ নং আসামী (১নং স্নানঘাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি) মোঃ সামিউল হক চৌধুরী ও ১০ নং আসামী এনামুল হক নাদির (হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) দেশ থেকে পালিয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। তাছাড়া ১৫ নং আসামী মিনহাজ হোসেন (আজমিরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা) পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামীদেরকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে তাদের গ্রেফতারের আবেদন করে পাবলিক প্রসিকিউটর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, হবিগঞ্জ জেলা ও দায়েরা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোঃ আব্দুল হাই।
বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার পর এ আদেশ দেন জেলা ও দায়েরা জজ আদালতের বিচারক বেগম জেসমিন আরা বেগম।