সিলেট সুরমা ডেস্ক : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সিলেট নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ মামলাটি দায়ের করেন। তিনি নগরীর হাতিমবাগ এলাকার বিরু মিয়ার ছেলে। মামলায় সিসিকের ৩জন কাউন্সিলরকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সাবেক সাংসদ হাবিবুর রহমান হাবিব, আনোয়ারুজ্জামানের পিএস শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিন, ৩৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহেল আহমদ, এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রাহি, মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আরিয়ান ইসলাম ভূঁইয়া, ২১ নং ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সভাপতি জান্নাতুন নাসরিন উর্মি, সিসিকের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল ফজল খোকন, ১৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেবুল আহমদ সাগর, ১৪ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুকিত সুমন, ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছয়েফ খান প্রমুখ।
এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের আরও ৫০-৬০ জনকে আসামী করা হয়।
মামলার এজহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ৪ আগস্ট দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় নগরীর রায়নগর এলাকায় দাদাপীরের মাজারের সামনে এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জন আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এতে মামলার বাদী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
এব্যাপারে মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি বিএনপির রাজনীতি করার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সাথে অংশ নেই। আমাকে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করতে চেয়েছিলো। আমি ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।
শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, থানায় দায়েরকৃত মামলায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করেছেন বাদী। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে। সেই সাথে আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।