দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধিঃ
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রাজিবাড়ী ভরাউট গ্রামের চাঞ্চল্যকর খসরু মিয়া হত্যা মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশীট) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৬ মে) এসআই মোঃ আমির হোসেন এর করা চুড়ান্ত প্রতিবেদনটি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (দক্ষিণ সুরমা থান) মিজানুর রহমান আদালতে প্রেরণ করেন। ঐ দিনই ৩নং আসামী ফেরদৌস আহমদ খাঁন এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করে আগামী ২০ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির করতে এসএমপি দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ঐ আসামী ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম ব্রাহ্মন গ্রামের আব্দুর রব খাঁনের ছেলে।
এজহার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারী সকাল অনুমান ১০ টা ৩০ ঘটিকার সময় খসরু মিয়ার ভাই ১নং আসামী কালাম আহম্মদ ও ভাইয়ের স্ত্রী ২ নং আসামী মিনা বেগম জায়গা জমি নিয়া খসরু মিয়াসহ শাশুড়ি এবং অন্যান্য ভাসুর দেবরদের সাথে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এজহার নামীয় ৩নং আসামী ফেরদৌস আহমদ খাঁন এর (১নং আসামীর ঘনিষ্ট বন্ধু) হওয়ার সুবাদে প্রায়ই বাড়ীতে আসিত এবং মাঝে মধ্যে ১ নং আসামী কালাম আহম্মদ এর ঘরে রাত্রী যাপন করিত। অনেক সময় বাড়ীর জায়গা জমি নিয়া কথা বার্তা হইলে উপরোক্ত ৩নং আসামী ১নং আসামীকে বিভিন্ন ধরনের উসকানী মূলক কথাবার্তা বলিয়া উত্তেজিত করিয়া নিহত খসরু মিয়ার সহিত খারাপ আচরন করিত এবং ৩নং আসামী বলতো প্রয়োজনে হত্যা করিয়া হইলেও ১নং আসামী তাহার বন্ধুর জায়গা জমি উদ্ধার করিবে বলিয়া সাহস যোগাইতো। ঘটনার দিন গত ২২/০২/২০২৫ ইং তারিখ সকাল অনুমান ১০:৩০ ঘটিকার সময় খসরু মিয়ার সাথে ১নং আসামীর সকালের নাস্তা খাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ১ নং ও ২ নং আসামী ৩ নং আসামীর পরোচনায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে খসরু মিয়াকে হত্যা করেন। এ ঘটনার পর দক্ষিণ সুরমা থানায় নিহতের স্ত্রী ফাহমিদা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং-১৩। দক্ষিণ সুরমা জিআর নং-২৯। তারিখ ২৫-০২-২৫।
আদালত হতে পাওয়া চুড়ান্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, এজাহার নামীয় ১ ও ২নং আসামীর সহিত নিহত খসরু মিয়া সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে জায়গা জমি নিয়া দীর্ঘদিন বিরোধ চলিয়া আসিছিলো। ৩নং আসামী ১নং আসামীর ঘনিষ্ট বন্ধু। সে প্রায়ই ১নং আসামীর বাড়ীতে আসা-যাওয়া করিত এবং প্রায়ই রাত্রী যাপন করিতো। মৃত খসরু মিয়ার সহিত ১ ও ২নং আসামীর জায়গা সম্পত্তির বিরোধের কথা ৩নং আসামী জানিতো। ৩নং আসামী ১নং আসামীকে মৃত খসরু মিয়াকে হত্যার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্ররোচনার জন্য উৎসাহ দিত এবং টাকা-পয়সা দিয়া যোগান করিতো।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে আরো জানা যায়, ৩নং আসামী বর্তমানে দেশের বাহিরে অবস্থান করেছে। বর্তমানে ১ ও ২নং আসামী কারাগারে আবদ্ধ (আটক) আছেন। আসামী ফেরদৌস আহমদ খাঁন ঘটনার পর হতে পলাতক রহিয়াছেন। সে দেশের বাহির হতে টাকা-পয়সা দিয়ে ১ ও ২নং আসামীকে জেল হাজত হইতে বাহিরের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাইয়া যাইতেছে। তাকে গ্রেফতার করিলে মৃত খসরু মিয়া হত্যার অনেক রহস্য বাহির হইবে।
এ বিষয়ে ফেরদৌস আহমদ খাঁন এর পিতা আব্দুর রব খাঁন বলেন, খসরু মিয়া হত্যা একটি আলোচিত ঘটনা। এই ঘটনার সাথে জড়িয়ে আমার প্রবাসী ছেলেকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আসামী করা হয়েছে। কালাম আহম্মদের ভাই খসরু মিয়া। আমার ছেলের বন্ধু কালাম আহম্মদ। তাদের পারিবারিক জায়গাজমি বিরুধ নিয়ে কালাম আহম্মদ ও তার স্ত্রী খসরু মিয়াকে হত্যা করেছে। কিন্তু আমার ছেলেকে কেন এই মামলায় ডুকানো হলো তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে আসামী করা হয়েছে আমার পরিবার ঘটনার ১০/১২ দিন পর জানতে পেরেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ছেলে উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের বাহিরে আছে।