সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতা মো. জাছিম আহমদ সাগরের বাড়িতে হামলা, সাগরের পিতা গুরুতর আহত

sylhetsurma.com
প্রকাশিত জুন ৮, ২০২৫
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতা মো. জাছিম আহমদ সাগরের বাড়িতে হামলা, সাগরের পিতা গুরুতর আহত

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিয়ানীবাজার ::::
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ঘাড়ুয়া গ্রামে এক নৃশংস হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মো. জাছিম আহমদ সাগরের পিতা মো. নাজিম উদ্দিন। গতকাল শনিবার (০৭ জুন) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, হামলাটি চালায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার একদল নেতাকর্মী। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে ৮-৯ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালায়। তাদের হাতে ছিল হকিস্টিক, চাইনিজ কুড়াল, রামদা প্রভৃতি।
হামলার সময় বাড়িতে অবস্থান করছিলেন সাগরের পরিবারের সদস্যরা। যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. জাছিম আহমদ সাগর বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন, ফলে হামলাকারীরা তাকে না পেয়ে বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে সাগরের পিতা মো. নাজিম উদ্দিন এগিয়ে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আক্রমণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীরা সাগরের পিতার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। বিশেষ করে বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমদ চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার ডান পায়ে বারবার আঘাত করেন। তার আর্তচিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় মো. নাজিম উদ্দিনকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ওসমানী মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, মো. নাজিম উদ্দিনের ডান পায়ের ক্ষত এতটাই গুরুতর ছিল যে তা রিকভার করা সম্ভব ছিল না। ফলে জীবনরক্ষার্থে তাঁর ডান পা অস্ত্রোপচার করে কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের পলাতক সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও পলাতক সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, “এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার না হলে আমরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। ছাত্রলীগ কখনো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে ছাড় দেয়নি, এবারও দেবে না।”
অন্যদিকে, এই ঘটনায় মো. জাছিম আহমদ সাগরের পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ানীবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার জন্য বিয়ানীবাজার থানায় যোগাযোগ করা হলেও থানা থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হইয়নি।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, “উক্ত ঘটনা সম্পর্কে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পান নি তারা । আনুষ্ঠানিক ভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত শুরু করা হবে এবং হামলাকারী যেই হোক, দল-মত নির্বিশেষে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ হামলার ঘটনায় বিয়ানীবাজার উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।