ডেস্ক নিউজ : ফ্রান্স প্রবাসী আবুল কালাম ওরফে আবু রায়হান। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত দীর্ঘদিন ধরে। তবে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে তিনি কাতারে পাড়ি দেন। পরে সেখান থেকে ফ্রান্স পাড়ি দিলেও তার আর দেশে ফেরা হয়নি।
অথচ গেল ২ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় চলতি মাসের ২২ মে রাতে দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাকে ১৭ নম্বর আসামি করেছে।
সিলেট মহানগর যুবদল নেতা আইনুল হক বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২৩ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে৷
আদালতের নির্দেশে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ গত ২২ মে ২০২৫ মামলাটি রেকর্ড করেছে।
শুধু আবুল কালাম ওরফে আবু রায়হান নয়, একই মামলায় এজাহার নামীয় আসামি হিসাবে আওয়ামী লীগের ৩ জন ও আরেকজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রয়েছেন৷
তারা হলেন- ৪৫ নং আসামি খালেদ (দুবাই প্রবাসী), অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ৮১ নং আসামি অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ময়নুল হক সাজিদ (যুক্তরাজ্য প্রবাসী), ১০২ নং- আসামি তুতিউর রহমান (স্পেন প্রবাসী) এবং ১০ নং আসামী সাফায়েত খান (কুয়েত প্রবাসী)।
ভুক্তভোগী যুক্তরাজ্য প্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ময়নুল হক সাজিদ অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সাল থেকে প্রবাসে থাকলেও শুধু রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আমাকে এই গায়েবি মামলা করা হয়েছে। আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় ও অনিয়ম দুর্নীতির নানা দিক নিয়ে লেখালেখি করি। এতে একটি রাজনৈতিক মহল আমার ওপর ক্ষুব্ধ। এই মামলা দিয়ে আমার ফ্যামিলিকে হয়রানি করা হচ্ছে। সাজিদ তার ওপর করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
১০ নং আসামী সাফায়েত খান (কুয়েত প্রবাসী) বলেন, দেশে থাকতে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন। কিন্তু কাউকে কোনোদিন হয়রানি করেননি। তিনি ২০২২ সালের ৬ জুন বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। অথচ গত ২ আগস্ট ২০২৪ সিলেটে ছাত্র আন্দোলনে হামলা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
একই রকম বক্তব্য দেন ৪৫ নং আসামি খালেদ (দুবাই প্রবাসী), ১০২ নং- আসামি তুতিউর রহমান (স্পেন প্রবাসী)।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট মহানগর যুবদল নেতা আইনুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো: জিয়াউল হক বলেন, বিস্ফোরক আইনে ১২৩ জনের নামে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।