সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেট নগরীর সাগরদীঘির পার এলাকায় বিএনপি নেতা খসরুজ্জামান খসরু (খসরু মিয়া)র বাসায় পরিকল্পিতভাবে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় সন্ত্রাসীরা বিএনপি নেতা খসরুজ্জামান খসরু (খসরু মিয়া)র স্ত্রীর চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে বাড়িতে দুর্র্ধষ লুটতরাজ করে বলে জানা যায়।
গত মঙ্গলবার (৫ আগষ্ট) রাত অনুমান ১০ টার দিকে খসরু মিয়ার স্ত্রীকে চোখে সুপার গ্লু লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, খসরুজ্জামান খসরু (খসরু মিয়া) একজন প্রবাসী লোক। কোতয়ালী থানাধীন পশ্চিম সাগরদিঘীর পার এলাকায় ৭৫/৯ খসরু মঞ্জিলে তিনি স্বপরিবারে থাকেন। বিগত ৭/৮ মাস পূর্বে তিনি দেশে আসেন। দেশে আসার পর হইতে প্রতিনিয়ত ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা হুমকির শিকার হচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ৫ আগষ্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যা অনুমান ৭ টার দিকে খসরুজ্জামান খসরু (খসরু মিয়া) বাসায় তাহার স্ত্রী শিল্পী বেগম ও কাজের মেয়েকে রেখে ব্যক্তিগত কাজে বাহিরে যান। কিছুক্ষণ পর শিল্পী বেগমের মোবাইল ফোনে কল দিলে তাহা বন্ধ পাওয়া যায়। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। বাসার সামনে এসে গাড়ি থামালে গেইটের সম্মুখে একটি সিএনজিতে অজ্ঞাত ২/৩ জন লোককে দেখতে পান। তাহাকে দেখে সিএনজি গাড়িটি দ্রুত বাসার সামন থেকে চলে যায়। তিনি দ্রুত বাসায় গিয়ে দরজা খোলা দেখেন। এসময় তিনি ভেতরে গিয়ে তাহার স্ত্রীকে বিছানার উপর চোখে সুপার গ্লু লাগানো অবস্থায় চিৎকার করতে দেখেন। এক পর্যায়ে তিনি খেয়াল করেন যে, বাসার সিসি ক্যামেরা বন্দ। এসময় কাজের মেয়ে মাইশা আক্তার শারমিন তাহার নিকট এসে কান্নাকাটি করলে তিনি তাহাকে কি হয়েছে এবং বাসায় কে এসেছিল জিজ্ঞাসা করলে সে কোন সদুত্তর দিতে পারে নাই, বরং আমতা আমতা করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাহাকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাপ দিলে সে রাগান্বিত হয়ে দ্রুত বাসা থেকে বাহির হয়ে চলে যায়। খসরুজ্জামান খসরু (খসরু মিয়া) দ্রুত তাহার স্ত্রীকে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। পরবর্তীতে তিনি তাহার স্ত্রীকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখে বাসায় এসে দেখেন তাহার বাসার আলমারিতে রাখা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার সহ আনুমানিক সর্বমোট আটাশ লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার টাকার মালামাল দুর্বৃত্তরা লুট করে নিয়ে যায়।
খসরুজ্জামান খসরু (খসরু মিয়া)র স্ত্রী শিল্পী বেগমের চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে তাহার নিকট থেকে জানা যায়, ঘটনার রাতে কাজের মেয়ে তাহাকে কৌশলে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে দেয়। একপর্যায়ে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসী সাব্বির আহমদ ও আবু বক্কর সিদ্দিকী মামুনসহ আরোও ২/৩ জন লোক বাসার ভিতর ঢুকে তাহার চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে দেয়। তাহার ঘুম ভাঙ্গলে তিনি বাসায় কয়েকজন লোকের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার করতে থাকলে সন্ত্রাসীরা তাহার মুখ চেপে ধরে এবং তাহাকে চিৎকার দিতে নিষেধ করে বলে চিৎকার করলে তাকে মেরে ফেলবে। এসময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জনাব খসরুজ্জামান খসরু (খসরু মিয়া)কে খুজতে থাকে। তাহাকে বাসায় না পেয়ে সন্ত্রাসীরা বাসায় লুটপাট করতে থাকে।
জনাব খসরুজ্জামান খসরু (খসরু মিয়া)র সাথে আলাপ কালে তিনি অভিযোগ করে বলেন, তিনি ও তাহার ছেলেরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর হইতে তিনি ও তাহার ছেলেরা প্রতিনিয়ত স্থানীয় আওয়ামীলীগ ডেভিলদের দ্বারা হুমকির শিকার হচ্ছেন। গত বছর ৫ই আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনে খসরুজ্জামান খসরু (খসরু মিয়া) ও তাহার পরিবার অবদান রাখায় তিনি সন্দেহ করতেছেন যে, আওয়ামীলীগ ডেভিলরাই সুকৌশলে বাসার কাজের মেয়েকে হাত করে তাহাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তিনি ঘটনার সময় বাসায় না থাকায় প্রাণে বেচে যান। তবে তাহার স্ত্রীকে চিরতরে অন্ধ করার জন্য চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে জানান।