বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পলায়নের পর দেশজুড়ে চলছে বিজয় উৎসব। এদিকে বিজয় উৎসবের আড়ালে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও মব জাস্টিসে মেতে উঠেছে কতিপয় দুর্বৃত্ত। শহর থেকে গ্রামে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়ীতে চলছে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বনাথে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ীতে দুর্বৃত্তরা আগুন জ্বালিয়ে দিলে বাড়ী ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এসময় আগুনে পুড়ে বৃদ্ধ পিতা এবং ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন এলাকার ১৫ জনেরও বেশি মানুষ। গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে বিশ্বনাথ উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, নিহত আওয়ামী লীগ নেতার নাম জয়নাল আবেদীন। তিনি উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সরকুম আলীর পুত্র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক শত্রুতার জের ধরে ঘটে এই হত্যাকান্ড।
এদিকে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহতদের সিলেট নগরীর একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনরোষের কারণে থানা ছেড়ে পুলিশ পালিয়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়েছে। শহর এলাকায় সেনাবাহিনী টহল শুরু করলেও গ্রামাঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুরে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে সাধারন মানুষও রাস্তায় নেমে উল্লাস করতে থাকে। বিকেলের দিকে কতিপয় দুর্বৃত্ত আওয়ামীলীগ ও তাদের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। সন্ধ্যার দিকে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীনের বাড়ীতে হামলা ও লুটপাট চালায়। এসময় তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে এবং রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এক পর্যায়ে বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন বাড়ীর ভেতরে তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান সবাই আটকা পড়েন। মুহুর্তেই আগুনের মাত্রা বেড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সাহায্যে তাদের উদ্ধার করলেও তার বাবার সেখানে মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী পপি বেগমকে উদ্ধার করে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদিকে একই দিনে আশপাশের এলাকায় আওয়ামীলীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে নিহত জয়নালের স্ত্রী পপি বেগম দাবি করছেন যে, স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের লোকজন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমাদের বাড়ীতে হঠাৎ হামলা চালিয়ে আমার স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
তার পার্লারেও আগুন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, এখন ছেলে-মেয়ে ও শাশুড়ীকে নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।