স্টাফ রিপোর্ট
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মোমেনের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে নগর পুলিশের ডিসি আজবাহার আলী শেখ, এডিসি সাদেক দস্তগীর কাউছার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সদ্য অপসারিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব ও রনজিত সরকার, শাবির সদ্য পদত্যাগী ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন, প্রো-ভিসি অধ্যাপক কবির হোসেন, সিসিকের ৫ কাউন্সিলর, ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডারসহ ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর হিসেবে গণ্য করতে কোতোয়ালি থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শাবির সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলা দায়েরের পর আদালত চত্বরে সাংবাদিদের তিনি বলেন, আন্দোলন চলাকালে পুলিশ-আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীরা মিলে আমাদের উপর হামলা চালায়। তারা মেধাবী শিক্ষার্থী রুদ্র সেনকে হত্যা করেছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করতে পুলিশকে আদেশ দিয়েছেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী এডভোকেট আব্দুর বরও সিলেটের ডাককে একই তথ্য জানিয়েছেন। জানা গেছে, শাবির ছাত্র রুদ্র সেনকে গত ১৮ জুলাই পুলিশ ও তখনকার সরকার দলের ক্যাডাররা ধাওয়া করে খালে পতিত করে হত্যা করে। এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শাবির সমস্বয়ক হাফিজুল ইসলাম ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করে (দন্ডবিধির ১৪৩/ ১৪৭/ ১৪৯/ ৩২৪/ ৩০৭/৩০২ ধারা) সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত মামলা দায়ের করেন। এসময় আদালতে প্রায় শতাধিক আইনজীবী এই দরখাস্ত মামলার পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করতে কোতোয়ালি থানার পুলিশকে আদেশ দেন।
আসামীগণের নাম: এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে কমিশনার কার্য্যালয়ে সংযুক্ত) আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর-ক্রাইম) সাদেক দস্তগীর কাউছার, জালালাবাদ থানার ওসি মিজানুর রহমান, একই থানার ওসি (তদন্ত) আবু খালেদ মো. মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সদ্য অপসারিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, শাবির সদ্য পদত্যাগী ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন, সদ্য পদত্যাগী প্রো-ভিসি অধ্যাপক কবির হোসেন, সাবেক প্রক্টর কামরুজ্জামান চৌধুরী, শাবির কলেজ পরিদর্শক তাজিম উদ্দিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রনজিৎ সরকার, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিসিক কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান, মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রায়ের লিকার মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিসিক কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, পুলিশের এসআই রেজওয়ান আহমদ, এসআই নিহারেন্দু তালুকদার, গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক আহবাব হোসাইন রাহিম, শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতি খলিলুর রহমান ও সেক্রেটারী সজিবুর রহমান গং ৭৬ জন সহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ৩০০ জন।
দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেন কামাল: এজাহারে বলা হয়, তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসে আন্দোলনকারীদের দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দেন। এমনকি অফিসিয়ালি পুরো দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে এ বিষয়ে প্রত্যেকটি জেলা ও থানায় এবং মেট্রোপলিটন কমিশনার অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল জায়গায় নির্দেশনা প্রদান করেন। উক্ত নির্দেশনার আলোকে আসামিগণ আন্দোলনকারীদের দমানোর জন্য উৎসাহিত হয় এবং ঘটনাস্থলসহ দেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় গণহত্যার মহা উৎসবে মেতে ওঠে।
পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে: এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন খান গতরাতে সিলেটের বাণীকে বলেন, আদালতে কোতোয়ালী সি,আর ৯২৩/২০২৪ মামলা দায়ের করা হইয়াছে। উক্ত সি,আর ৯২৩/২০২৪ নং মামলায় আদালত এজাহার গণ্যে আসামীগণকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে।
পলাতক আসামী: সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন খান আরোও জানান যে, উক্ত মামলার আসামীগণের মধ্যে পুলিশের ডিসি আজবাহার আলী শেখ, পুলিশের এডিসি সাদেক দস্তগীর কাওছার, জালালাবাদ থানার ওসি মিজানুর রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল, সাবেক এম.পি নাদেল, সাবেক এমপি হাবিব, সাবেক এমপি রঞ্জিত, সিলেটের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক আহবাব হোসাইন রাহিম, শাবি সদ্য পদত্যাগী ভিসি ফরিদ উদ্দিন, প্রভিসি অধ্যাপক কবির হোসেন, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ পলাতক থাকিয়া বিদেশে পাড়ি জমাইয়াছেন।