নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের নেতা আব্দুল্লাহ চৌধুরীর সিলেট নগরীর কেয়াপারা এলাকার আ/এ-২১৩ নং বাসায় শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার এক মামলায় তার নাম ৮ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ থাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিতে মোট ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও অজ্ঞাত ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় আব্দুল্লাহর ছোট ভাই আহমেদ শরীফ চৌধুরীকে ৩৭ নম্বর এবং তাদের পিতা রফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে ৩৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মামলাটিতে নাশকতা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মামলার পরপরই আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর থেকেই প্রধান আসামিসহ একাধিক ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার এক কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, “আব্দুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি মামলার ৮ নম্বর আসামি এবং আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আইন অনুযায়ী তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে, আব্দুল্লাহ চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন— তারা এই মামলার বিষয়ে কিছুই জানতেন না।আব্দুল্লাহর মা বলেন,
“আমরা আগে কখনো শুনিনি যে আমাদের ছেলের নামে কোনো মামলা আছে। হঠাৎ করেই পুলিশ এসে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। আমরা ভিন্ন বাসায় থাকি , সেখানে আব্দুল্লাহকে না পেয়ে আমাদের এই বাসায়ও আসে পুলিশ। তারা বলছে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে, কিন্তু আমরা কোনো কাগজও পাইনি। আমাদের ছোট ছেলে আহমেদ শরীফ আগের একটি মামলায় জেলে ছিল , তবুও তাকে নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে। সে এখন আত্মগোপনে আছে । ”
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের পরিবার এখন চরম মানসিক চাপের মধ্যে আছে। আমার স্বামী রফিকুল ইসলামও এখন আত্মগোপনে আছেন। পুলিশ প্রতিদিন বাড়িতে এসে খোঁজখবর নিচ্ছে। আমরা ন্যায়ের আশায় আছি, কিন্তু ভয়ে পরিবারে কেউ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ চৌধুরী সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং বেশ কিছু সময় ধরে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আসছিলেন। তিনি একাধারে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের আওতাধীন ৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং পরে তাকে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত করা হয়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গতরাতে হঠাৎ করে পুলিশ আসে। অনেক সদস্য মিলে পুরো বাড়িটা ঘিরে ফেলে। পরে তারা ভেতরে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে চলে যায়। তখন পরিবার খুবই আতঙ্কিত ছিল।”
কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, “মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তদন্তের স্বার্থে সব কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা রয়েছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আইনের বাইরে কিছুই করা হবে না।”
এ ঘটনায় কেয়াপারা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা দেননি।মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।