দেশবাসীর কাছে স্বামীর বিচার চান স্ত্রী
কোর্ট প্রতিনিধিঃ
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার টেংরা গ্রামের মোঃ আব্দুর রহিম এর ছেলে রুহেল আহমদ কে ত্যাজ্য ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট জজ কোর্টে এসে মাননীয় নোটারী পাবলিক এর মাধ্যমে এ ঘোষণা করেন।
এফিডেভিট দাতা মোঃ আব্দুর রহিম তার ঘোষণাপত্রে লিখেন, রুহেল আহমেদ (২৯) আমার ঔরষজাত পুত্র সন্তান হয়। তাহার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করিয়া আমি বহু অর্থ ব্যয় করিয়া তাহাকে পড়ালেখা করাই। কিন্তু বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই সে ব্যাভিচারে লিপ্ত হয়। সে অবাধে নারী-পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়। তাহার কোন বাচ বিচার নেই। আমরা তাহাকে বহুবার বুঝাইলেও তাহার কোন পরিবর্তন হয় নাই। উপরন্তু সে আমাদের অমতে বিবাহ করিরা আলাদা বসবাস করিতেছে এবং বিভিন্ন প্রকার ধর্ম বিরুদ্ধ কাজ করিয়া বেড়ায়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হইলে গ্রামের ইমাম ও ধর্মপ্রান মুসলিমরা আমাদেরকে সমাজচ্যুত করাসহ বিভিন্ন রকম অসম্মানজনক কথাবার্তা বলে। পরে আমি ও আমার স্ত্রী আমাদের উক্ত পুত্রকে ত্যাজ্য করে তার সাথে সমস্ত যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত ঘোষনা করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এহেন অবস্থায় আমার উক্ত পুত্র ইসলাম ধর্মের রীতিনীতির বাহিরে গিয়ে সমকামীতা ও ব্যাভিচারে লিপ্ত থাকায় তাহার ব্যক্তিগত অপকর্মের ভার আমরা বহন করিতে ইচ্ছুক নহে বিধায় আমি স্বেচ্ছায় তাহাকে ত্যাজ্য ঘোষণা করলাম।
এ বিষয়ে জানতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ গ্রামের এক ব্যক্তি বলেন, রুহেল আহমেদ ছোট হতেই সমকামী ও পরনারী আসক্ত। তার পিতা তাকে ত্যাজ্য ঘোষণা ও তাকে আমাদের সমাজ থেকে বয়কট করার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়েছে।
প্রবাসে থাকা রুহেল আহমদের স্ত্রীর সাথে প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে রুহেল আহমেদের সাথে বসবাস করছেন না, পুত্র সন্তান নিয়ে আলাদা থাকছেন। তিনি মন্তব্য করেন, রুহেল আহমেদ চারিত্রিক গতভাবে খারাপ ও নিকৃষ্ট গর্হিত লোক। সে প্রতিনিয়ত একাধিক নারী-পুরুষের সহিত যৌনতায় আসক্ত হয়। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রচার করতে চাই এ লোকের মুখোশ। যেন দেশের প্রতিটি মানুষ একে চিনে রাখে। একে আইনের আওতায় নিয়ে এসে যেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়। ধর্ম বিরোধী কাজকর্ম করার দুঃসাহস যেন আর কেউ না করে।
উক্ত বিষয়ে রুহেল আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এ বিষয়ে তিনি কোনো রকম কথা বলতে ইচ্ছুক নয়।
বিষয়টি জানতে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রুবেল মিয়া কে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দায়ের করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় হবে বলে জানান।