স্টাফ রিপোর্টার:
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সাবেক আওয়ামী লীগ- এর ছাত্রলীগের সদস্য সাদিকুর রাহমান এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।
তার পরিবার জানায় – তাকে না পেয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হুমকি বেড়েছে তার পরিবারের প্রতি।
সাদিকুর রাহমান বিশ্বনাথ উপজেলার ছত্রিশ (Sotish) গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তার নামে একাধিক মামলা হওয়ায় তার বাড়িতে পুলিশ পর্যবেক্ষণের জন্য যান, কিন্তু তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পরিবারের ভাষ্যমতে – সাদিকুর রাহমান তার স্ত্রী-সহ ইউরোপ চলে গেছে কাজের উদ্দেশ্যে, এবং আরো জানান সে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। বরং প্রতিপক্ষ দল তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট অর্থাৎ— সরকার পতনের পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। ওই দিন বিরোধী রাজনৈতিক দলের একটি প্রভাবশালী গ্রুপ তাকে খুঁজতে তার বাড়িতে একাধিকবার যায়, কিন্তু তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে।
তার পরিবার জানায়— “সাদিকুর রাহমানকে সামনে পেলে সরাসরি খুন করার মতো হুমকি দেওয়া হয়।”
এছাড়া হুমকিদাতাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় এড়িয়ে যায়।
এ ঘটনায় তার বাবা আব্দুল আহাদ বিশ্বনাথ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন— প্রতিপক্ষ দল বাড়িতে এসে সাদিকুর রাহমানকে খোঁজাখুঁজি করে না পেলে পরিবারকে হুমকি দিয়ে যায়, এজন্য পরিবার ভয় এবং আতঙ্কে আছে।
সাদিকুর রাহমান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় ও পরিশ্রমী সদস্য ছিলেন এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। তার উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও স্থানীয়ভাবে বহুবার প্রচারিত হয়েছে।
পরিবারের দাবি— “তাঁর কোনো রাজনৈতিক দন্দের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ত্যাগ করা নয়। বরং সে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন সময়েও নিজ এলাকার অসহায়দের বিভিন্ন সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে।”
এদিকে, থানায় তার নামে দায়েরকৃত মামলাগুলোকে পরিবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছে।
স্থানীয়রা জানান— “সাদিকুর রাহমানকে সর্বশেষ ২০২৪ সালের শেষের দিকে এলাকায় দেখা যায়। ব্যক্তিত্ব এবং ভালো আচরণের জন্য এলাকার মানুষ তাকে অনেক পছন্দ করতো”।
তবে পরিবার মনে করে, বর্তমান বিরোধী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন পরিচিত নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন— “সাদিকুর রাহমান ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় ও পরিশ্রমী সদস্য ছিলেন। তিনি বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশে অংশ নিতেন। এখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার নিরাপত্তা নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন।”
এদিকে, স্থানীয় পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে— তাকে খুঁজে বের করতে একাধিক জায়গায় নজরদারি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানায়— “আমরা তার নিরাপত্তা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।”