স্টাফ রিপোর্টারঃ ঘাসিটুলায় এক প্রবাসীর বাসায় ঢুকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক যুবলীগের ঐ নেতার নাম শাহিদুল ইসলাম। তার পিতা নাঈম উল্লাহ ও ভাই সোহেল আহমদ দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গতকাল সোমবার (১২ আগস্ট) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫ ঘটিকার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তারা সিলেট সিটি করপোরেশন এর অন্তর্ভুক্ত নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডের ঘাসিটুলা এলাকার ব্লক- বি, ৭০ নং বাসার বাসিন্দা। ঘটনার পর মোটরসাইকেল করে হেলমেট পড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সন্ত্রাসীরা।
খবর নিয়ে জানা যায়, নাঈম উল্লাহ এর ছেলে শাহিদুল ইসলাম যুবলীগের রাজনীতির সহিত জড়িত। ৫ই অগাস্ট সরকার পতনের পর বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা তাকে হত্যা করার জন্য টার্গেট করে হামলা চালায়। বাসায় ঢুকে শাহিদুল ইসলাম কে না পেয়ে তার ছোট ভাই সোহেল আহমদ ও পিতা নাঈম উল্লাহ কে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সোবহানীঘাটস্থ নগরীর আল হারামাইন হাসপাতালে ভর্তি করেন। সোহেল আহমেদ এর স্ত্রী ও সন্তান ঘটনার সময় বাড়ীতে না থাকায় (শ্বশুর বাড়ি থাকায়) ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়।
ঘটনার বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানান, যুবলীগের রাজনীতি করার অপরাধে প্রবাসীকে হত্যার জন্য সন্ত্রাসীরা বাসায় ঢুকে। পরে তাহাকে না পেয়ে তার পিতা নাঈম উল্লাহ ও তার পরিবারকে খুন করার জন্য তান্ডব চালায়।
নাঈম উল্লাহ এর ছেলে প্রবাসী সাহিদুল ইসলাম যুবলীগের সিলেট মহানগরী (সদর) ১০ নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে তিনি স্ব-পরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত। তিনি দেশে থাকাকালীন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগের সহিত সক্রীয় ছিলেন। তাছাড়া তিনি এই ১০ নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি। টার্গেট করে তাহাকে মুলত হত্যার জন্য সন্ত্রাসীরা বাড়ীতে আসে। ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এর পর হতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের বাহিরে থেকে তিনি (শাহিদুল ইসলাম) অনলাইনে সরকার ও বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা এবং কটাক্ষ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পোস্ট বা কমেন্টে উস্কানী দিচ্ছেন। তাই বিএনপি-জামায়াত এর ক্ষোভ হতে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাসায় ঢুকে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা এলাকার সাধারণ মানুষের।
অবিলম্বে এই সব মব বন্ধ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বৃহত্তর ঘাসিটুলা এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আমার এক সহকর্মী সাংবাদিক এর সাথে মুঠো ফোনে কথা বলেন প্রবাসী শাহিদুল ইসলাম। আমার সহকর্মীকে তিনি নিশ্চিত করেছেন, “২০২২ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি দেশ ত্যাগ করেন। সরকার পতনের পর বিরোধী দলের শত্রুরা সুযোগ পেয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার বাড়ীতে ও পিতা এবং ছোট ভাইয়ের উপর হামলা চালিয়েছে হত্যার উদ্দেশ্যে। তারা ভেবেছিল হয়তো তিনি (শাহিদুল ইসলাম) এখনো দেশে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। মূলত তাকে মারতে এসেছিল। কিন্তু প্রবাসী ঐ নেতাকে না পাওয়ার কারনে তার বৃদ্ধ পিতা ও ছোট ভাই কে এর মূল্য দিতে হলো। তাদের শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। আরো জানা যায়, প্রবাসীর ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানেরা তাদের নানাবাড়ি থাকার কারণে ভাগ্যক্রমে সন্ত্রাসীদের কাছ হতে রেহাই পান।”
এদিকে ভিক্টিমের পরিবার পুলিশের নিকট লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলেও তা নেয়া হয়নি বলে দাবী ভিকটিমের পরিবারের। সোহেল আহমেদের স্ত্রী সংবাদ মাধ্যম কে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা অথচ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ কোন অভিযোগ গ্রহণ করে নাই।
এ ব্যাপারে এসএমপি কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন শিপন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ওসি শিপন সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় (৫ই আগস্টের পর হতে) আত্নগোপনে আছেন। বার বার জরুরী নাম্বারে ফোন দিলেও কোন সাড়া মেলেনি। এখনো পরিস্থিতি শান্ত নয়। যে কোন সময় বড় ধরনের কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে।