এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নেল ছাত্রদল ক্যডাররা : আহত ৪, আট জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

sylhetsurma.com
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫
এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নেল ছাত্রদল ক্যডাররা : আহত ৪, আট জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

Manual3 Ad Code

সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন দাড়িয়াপাড়া এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পুলিশে সোপর্দ করার আগেই সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গতকাল ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং বিকাল ৩টার দিকে, দাড়িয়াপাড়াস্থ নুরজাহান হোটেলের সামনের রাস্তায়। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এ ঘটনায় সিলেট মহানগর এনসিপির সমন্বয়ক কিবরিয়া সারওয়ার বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় ১৪৩/১৪৭/১৪৮/২২৪/৩০৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩৫৩/৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামীরা হলেন-সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার লন্ডনী রোড এলাকার আরিফুর রহমানের পুত্র তুহিন, সিলেটের শাহপরান থানার টিলাগড় এলাকার মো. খালেদুর রহমানের পুত্র তারেক আজিজ মুন্না, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার নানশ্রী এলাকার মো. রজব আলীর পুত্র মো. রাকিবুল হাসান, সিলেটের কোতোয়ালী থানার চারাদিঘীরপার এলাকার আব্দুল ওহাবের পুত্র মো. মাছুম আহমদ, সিলেটের কোতোয়ালী থানার মীরবক্সটুলা এলাকার বিজন দাসের পুত্র নিলয় দাস, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার বলদী গ্রামের মানিক মিয়ার পুত্র ওয়াহিদ হোসেন ফাহিম, সিলেটের কোতোয়ালী থানার ৩৫ সওদাগরটুলা এলাকার মো. আব্দুল করিমের পুত্র সাইদ আহমদ এবং সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার বনকলাপাড়া এলাকার নূরানী-২১-এর বাসিন্দা ইউনুস মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ আবুল ফজল ওরফে খোকন সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি তুহিন নুরজাহান আবাসিক হোটেলের সামনে চায়ের দোকানে অবস্থান করছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে কিবরিয়া সারওয়ার তার দলের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তুহিন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই ছাত্রদল নেতা তারেক আজিজ মুন্নার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং পরে মোটরসাইকেলযোগে অভিযুক্ত তুহিনকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হামলায় বাদী কিবরিয়া সারওয়ারসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহতরা হলেন- মো. সাদী জামালী, নওশাদ আহমদ চৌধুরী ও ফুয়াদ হাসান। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মহানগর ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেছেন, এটা প্রতিহিংসামূলক মামলা। বিদেশে অবস্থানরত ছাত্রদল নেতা ওয়াহিদ হোসেন ফাহিম ও সাইদ আহমদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এটা ছাত্রলীগ ও এনসিপির সংঘর্ষ।