দলবদ্ধ ধর্ষণের ৩দিন পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে যুবতীর মৃত্যু

sylhetsurma.com
প্রকাশিত আগস্ট ১৫, ২০২৪
দলবদ্ধ ধর্ষণের ৩দিন পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে যুবতীর মৃত্যু

Manual4 Ad Code

বিশ্বনাথ প্রতিনিধিঃ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়া যুবতী সুপ্রিয়া রায় (১৮) মারা গেছেন। তিনি লালাবাজার এলাকার টেংরা গ্রামের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহেল আহমদ এর স্ত্রী। গতকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ১০ ঘটিকার দিকে ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেড এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করে নি পুলিশ।

Manual4 Ad Code

ধর্ষিতার স্বামী মাহেল আহমদ সাংবাদিকদের জানান, চলিত বছরের ১৫ জুন সনাতন ধর্মাবলম্বী সুপ্রিয়া রায় এর সহিত বিশেষ বিবাহ আইনে বিবাহ (কোর্ট ম্যারেজ) হয়। মুলত আমি মুসলিম ধর্মের অনুসারী ও আমার স্ত্রী সুপ্রিয়া রায় সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় মৌলবাদী জামায়াত-শিবির এর লোকজন ফেঁসে উঠেন। কিন্তু তখন আমি ছাত্রলীগ এর রাজনীতির সহিত যুক্ত থাকায় তারা কিছুই করতে পারেন নি। কিন্তু আওয়ামী সরকারের পতন হওয়ার মাত্র ৪ দিনের মাথায় গত ৯ই আগস্ট আমার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে মৌলবাদীরা বাড়ীর বিভিন্ন কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয় ও বেশ কিছু মালামাল লুটপাট করে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় তারা তান্ডব চালানোর পর এক পর্যায়ে আমার স্ত্রী সুপ্রিয়া রায় ও আমাকে ধরে নিয়ে যায়। আমাকে আটকিয়ে আমার স্ত্রী সুপ্রিয়া রায় এর উপর দলবদ্ধভাবে পাশবিক নির্যাতন চালায়। দীর্ঘ ৩ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করে। পরে একটি আবদ্ধ ঘর হতে উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় গত সোমবার (১২ আগস্ট) ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেডে ভর্তি করা হয়। এখানে ২ দিন চিকিৎসাধীন থেকে গতকাল বুধবার সে মারা যায়। এ ঘটনায় তিনি বা তার পরিবারের কেউ মামলা দায়ের করেন নি বলে জানান।

Manual3 Ad Code

মৃতের সুরতহাল প্রতিবেদন এর একটি কপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, এতে উল্লেখ করা হয় যে, মৃত সুপ্রিয়া রায়। বয়স ১৮ বছর। গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা। লম্বা অনুমান ৫ ফুট ১ ইঞ্চি। মাথার চুল অনুমান দেড় ফুট লম্বা। মাথার কপাল হতে পিছ পর্যন্ত স্বাভাবিক। মুখ মন্ডল-এ ছোট ছোট দাগ (কামড়) আছে। সমুস্ত মুখে হাতের নখ এর ৮/১০ টা আঘাত (চিহ্ন) আছে। মৃতের চোখ স্বাভাবিক। ঠোঁট গলা নাক এ ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। যাহা অনুমান ১০০ হতে ১৫০ টি দাঁতের কামার হবে। দুই হাতের আঙ্গুল-এ নখ দিয়ে আঁচড় আছে। মৃতের বুক, পেট কোমর অস্বাভাবিক। বুকের মধ্যে মাতৃদুগ্ধেতে দাঁতের কামড় আছে। যার পরিমান প্রায় ১ ইঞ্চি গভীর। বুকের মধ্যে মাতৃদুগ্ধেতে ৩টি বড় জখম (ডান) এবং ২টা বড় জখম (বামে)। তাছাড়া পেট ও পিঠ অস্বাভাবিক। কোমর হইতে পা পর্যন্ত অস্বাভাবিক। যৌনাঙ্গ অস্বাভাবিক। যৌনাঙ্গের মধ্যে অতিরিক্ত রক্ত বের হয়েছে। যৌনপথে হাতের নখ ও দাঁতের কামড় আছে । দুই পা (হাটুর নিচ) স্বাভাবিক। গ্যাং রেপ (ধর্ষণ) করায় এবং শারিরিক নির্যাতনের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় সুপ্রিয়া রায় নিহত হন বলে প্রাথমিক অবস্থায় জানা যায়।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, ইতি মধ্যে আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন শেষ করে ধর্ষণের শিকার যুবতী সুপ্রিয়া রায় এর ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করা হয়নি।

Manual8 Ad Code

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে যুবতীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তের সঙ্গে যুক্ত হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ শিশির রঞ্জন চক্রবর্ত্তী। তিনি জানান, গ্যাং রেপ (দলবদ্ধ ধর্ষণ) এর কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া মেয়েটি বিকৃত যৌনাচারের শিকার হয়েছে। মেয়েটিকে উত্তেজক বা নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা রাসায়নিক পরীক্ষার নমুনা এবং কতজনের সহিত ধর্ষণের শিকার হয়েছিল, তা জানতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।’