স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর আখালিয়া এলাকায় ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অপসারিত মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০০/১৫০ জন অজ্ঞাতনামা আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের ৩/৪ ধারাসহ পেনাল কোডের ১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে এসএমপির কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন নগরীর জালালাবাদ থানার বনকলাপাড়া আবাসিক এলাকার মোঃ রইছ আলীর পুত্র মোঃ রায়হান উদ্দিন (২৭)।
মামলরা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ আকবর হোসেন।
তিনি বলেন, ৪ আগস্ট নগরীর আখালিয়াস্থ মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত এই মামলায় আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের ৬৯ জন নেতাকর্মীর নামোল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০/১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (৫৫), জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম (৩৫), সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ (৩০), মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস (মিন্টু) (৪০), মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি কাউন্সিলার আপ্তাব আহমদ খান (৫০), আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের মধ্য থেকে রুহিন আহমদ (৩৫), তুহিন (৩৮), শিপার তালুকদার (৩৫), মোঃ মানিক মিয়া (২৭), সুজন আহমদ (৩৮), সবুজ তালুকদার (২৮), সুমেল মহালদার (২৩), মোঃ ছালিকুর রহমান (৩২), খুর্শেদ (২৬), জাহাঙ্গীর আলম (৩৩), এস.আই রাজু (৩০), মোঃ রাজন হোসেন (৩৯), মোঃ সাইফুল আলম সিদ্দিকী (৩৮), সুলতান (৩২), মিজানুর রহমান রকি (২৮), মুজিবুর রহমান রুহিত (২৭), আতিক হাসান ডালিম (৩২), আলতাফ হোসেন মুরাদ (৩৩), মোঃ সাজিদুল ইসলাম (২২), আব্দুল মুহিত শিরিন (৪৫), রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী (৩৩), হোসেন (২৮), আব্বাস আহমদ (৩৫), রাসেল উরফে কুত্তা রাসেল (২৭), নাজিম (২৬), পাঙ্গাস (৩৫), সাবুল আহমেদ (২২), সুমন (৩৪), শাহিন মিয়া (৩৫), আসাদ (২৭), ইবনে কামরুল আজাদ (৩২), চমক আলী, (৪৫), আব্দুল জাহিদ (৫২), কালা জামাল (২৮), ককটেল রিফাত (৩৯), ইশতিয়াক তানভির (৩২), সালা উদ্দিন (৩১), চান মিয়া (৪২), গেদন মিয়া (৫০), আনছার উরফে শুটার আনছার (৩০), রফিকুল ইসলাম কিরন (৫০), আব্দুল মালিক (৫০), জাবেদ চৌধুরী (৩৫), শাহিন আহমদ (৩৬), পারভেজ আহমদ (৩২), তৌফিকুল আলম বাবলু (৪৫) মির রিয়াজ (২৬), মির সামাদ (৩২), লোকমান আহমদ (৪৫), আবুল ফজল সোবেল (৪০), রোকসানা আক্তার (৩০), রিপন মিয়া (২৮), ছারো মিয়া (৫২), আশরাফ সিদ্দিকী (৪০), ফখর উদ্দিন (৩৯), ইসাক আলী
(৪৫), উজ্জ্বল (২৬), মুক্তা আহমদ (২২), মোঃ সাইফুর রহমান (৩৯), সাজিদ মিয়া (৫০), নিপা রানী রায় (২৭), নুর ইসলাম (৪৬), মালেক আহমদ (৫১) ও আলা উদ্দিন (৪২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ ১০০/১৫০ জন আসামী।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল ৪ ঘটিকার দিকে ছাত্র-জনতার সহিত মিলিত হইয়া মিছিল সহকারে নগরীর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আখালিয়া এলাকায় মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সম্মুখে আসামাত্র পূর্ব থেকে অবস্থান করা উল্লেখিত আসামীগণসহ অজ্ঞাতনামা আসামীগণকে সাথে নিয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা হত্যা সংঘটন করার উদ্দেশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, কাটা রাইফেল, পাইপগান, রামদা, ককটেলসহ মারাত্মক অস্ত্রসন্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিছিল কারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া ৪৫টি গুলি বাদীর শরীরের বিভিন্নস্থানে বিধে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাদীকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আসামীরা সেখানেও বাদীর উপর হামলা চালায়। তাই শেষ পর্যন্ত বাদীকে ঐ হাসপাতাল ত্যাগ করে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ওসি আকবর হোসেন বলেন, মামলাটি তদন্তপূর্বক আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।