সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার বাসায় গভীর রাতে পুলিশি তল্লাশি, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ

sylhetsurma.com
প্রকাশিত নভেম্বর ১৪, ২০২৪
সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার বাসায় গভীর রাতে পুলিশি তল্লাশি, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সিলেট মহানগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা মো. মাহবুবুর রহমান খানের বাসায় গভীর রাতে পুলিশি তল্লাশি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, তল্লাশির নামে বাসায় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল দিবাগত গভীর রাতে সিলেট কোতওয়ালী থানার আওতাধীন আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল মাহবুবুর রহমান খানকে আটক করার উদ্দেশ্যে তার বাসায় অভিযান চালায়। পুলিশ দাবি করেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

Manual3 Ad Code

তবে মাহবুবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে থানায় কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকা সত্ত্বেও একটি বিশেষ মহলের নির্দেশে পুলিশ দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর অন্তর্গত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মানিক মিয়ার প্ররোচনায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে সিলেট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী বাসায় প্রবেশ করেন। পুলিশের উপস্থিতিতেই তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যান।

Manual8 Ad Code

এসময় তারা মাহবুবুর রহমানের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। শুধু তাই নয়, বাসায় উপস্থিত নারী সদস্যদের প্রতিও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে দাবি করা হয়।

Manual5 Ad Code

ঘটনার সত্যতা জানতে আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির সেকেন্ড অফিসার নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “গত জুলাইয়ের আন্দোলন এবং ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মাহবুবুর রহমানের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে—এটি সত্য।” তবে বাসায় লুটপাট বা ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে এড়িয়ে যান।

তিনি আরও বলেন,“অভিযানের সময় বাসাটি শনাক্ত করার জন্য স্থানীয় এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে ছিলেন।” তবে ঐ ব্যক্তিরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সুস্পষ্ট উত্তর দেননি।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তারা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও মানবাধিকার সংগঠনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Manual3 Ad Code