রক্তে ভেসে গেল বালাগঞ্জের ডাকবাংলো পয়েন্ট

sylhetsurma.com
প্রকাশিত মে ১৩, ২০২৫
রক্তে ভেসে গেল বালাগঞ্জের ডাকবাংলো পয়েন্ট

বামের ছবিতে নিহত লয়লুস মিয়া এবং মারাত্মক আহত জুয়েল আহমেদ

Manual2 Ad Code

বিএনপি জামাতের নৃশংস হামলায় যুবলীগ নেতা লয়লুস মিয়া নিহত : রামদা হাতে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, নাম জানা খুনিরা প্রকাশ্যে প্রশাসন নীরব !


নিজস্ব প্রতিবেদক বালাগঞ্জ, সিলেট
ঘটনাস্থল: বালাগঞ্জ বাজারের ডাকবাংলো পয়েন্ট এ কেমন দেশ, এ কেমন আইন যেখানে প্রকাশ্য বাজারে, ডাকবাংলো পয়েন্টের মতো ব্যস্ত স্থানে মানুষ কুপিয়ে হত্যা হয়, আর অভিযুক্তরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়! ১১ মে ২০২৫, বালাগঞ্জ বাজারের ডাকবাংলো পয়েন্ট। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিএনপি ও জামাতের নেতা-কর্মীদের সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত হামলায় বালাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি লয়লুস মিয়াকে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ধারালো দেশীয় অস্ত্র বিশেষ করে রামদা দিয়ে একের পর এক কোপে মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় ঘটনাস্থল।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপি নেতা খুনি ইউনুস, রাজন মিয়া, রহমত আলী, রেজুয়ান, ইউসুফ, হারুন মিয়া এবং জামাত নেতা মকসুদ আলী, মুহিব মিয়া, রহমত আলী এরা সবাই সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়, রেজুয়ান ও ইউনুস আলী রামদা হাতে লয়লুস মিয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে। হামলার সময় আশপাশে থাকা মানুষ আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। লয়লুস মিয়াকে বাঁচাতে ছুটে এলে হামলাকারীরা তাঁর আপন ভাইদের ওপরও বর্বরভাবে আক্রমণ চালায়। এক পরিবারের ওপর যেন নেমে আসে প্রতিহিংসার নরক।
এই হামলায় গুরুতর আহত হন নিহত লয়লুস মিয়ার ভাই বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ মিয়া, বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি জুয়েল আহমেদ, বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী আনহার মিয়া, এছাড়াও গুরুতর আহত হন আওয়ামী লীগ নেতা আশিক মিয়া, মোস্তফা মিয়া, যুবলীগ নেতা মুহিদ মিয়া, সুহেল মিয়াসহ আরও কয়েকজন। আহতদের অনেকের শরীরে একাধিক কোপের চিহ্ন; কেউ কেউ এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। নিহত লয়লুস মিয়া ও তাঁর পরিবারের সবাই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এটি ছিল ঠান্ডা মাথায় করা রাজনৈতিক সন্ত্রাস। সবচেয়ে ভয়াবহ ও লজ্জাজনক বিষয় হলো এত বড় হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্ত বিএনপি ও জামাতের নাম জানা নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে বালাগঞ্জ বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো গ্রেফতার নেই, নেই কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ। প্রশাসনের এই নীরবতা জনমনে গভীর ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।
নিহতের পরিবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে, “ডাকবাংলো পয়েন্টে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হলো তবু বিচার নেই! আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই?” এলাকাবাসীর প্রশ্ন আজ একটাই দিবালোকে খুন হলে যদি বিচার না হয়, তাহলে আইনের শাসন কোথায়? রাজনৈতিক পরিচয় কি মানুষ মারার লাইসেন্স হয়ে গেছে? বালাগঞ্জ আজ শোকাহত নয় শুধু বালাগঞ্জ আজ ক্ষুব্ধ, অপমানিত ও আতঙ্কিত। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে জনরোষ যে ভয়াবহ রূপ নেবে তার দায় এড়াতে পারবে না প্রশাসন।