স্টাফ রিপোর্ট::
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ছাত্রলীগ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এবং ৮নং মোগলাবাজার ইউপি’র রেঙ্গা হাজীগঞ্জ নোয়াগাও গ্রামের আব্দুল আহাদের মেয়ে জেরিন তাসনিম মাহজাবিন-কে খুঁজছে পুলিশ। তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ করেছেন তার ভাই ফহাদ মাহমুদ ফাহাদ ও পরিবারের লোকজন । এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন শিবিরের পরিচয়ে ১৫/২০ টি মোটর সাইকেলে করে জেরিনের বসত বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার ভাই ফাহাদকে খুজে না পেয়ে বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে আগুন লাগানোর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেরিন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা মোগলাবাজার ইউপি ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো, “ধর ধর লীগ ধর, ধরিয়া ধরিয়া জবাই কর” , “নারে তাকবীর আল্লাহু আকবার” স্লোগান দিয়ে ১৫/২০ টি মোটরসাইকেল যোগে ৪০/৫০ লোক জেরিনের বাড়িতে প্রবেশ করে ঘর-দোয়ার ভাংচুর করে ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। এ সময় জেরিনের ঘরে কেউ ছিলেন না। আর এলাকার কোন লোকজন ভয়ে সামনে যাননি। সন্ত্রাসীরা যাওয়ার সময় ঘরে আগুন লাগিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।
সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানা পুলিশ জানিয়েছে, মোগলাবাজার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা জেরিন ও তার ভাই ফাহাদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা
, নাশকতা, মারপিট, রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে একাধিক মামলা আছে। পুলিশের তালিকায় সে আত্মগোপনে রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, জেরিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এরমধ্যে দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানার দুটি মামলা রয়েছে। উক্ত মামলাগুলো তদন্তাধীন। উক্ত মামলা গুলো ছাত্রজনতার আন্দোলনের হওয়ায় আদালত সূত্র জেরিনসহ এজাহার নামীয় অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন।
এদিকে, বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে নীল নক্সা তৈরি করে গোপন তৎপরতা শুরু করেছে । যাতে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করাই হচ্ছে তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। এমনই তথ্য জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ রেজাউল হক বিপিএম (বার), পিপিএম জানান, আওয়ামী লীগ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা, ব্যক্তিসত্তা বা প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনসহ সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাই ওয়ারেন্টভুক্ত সকল পলাতক আসামীদের খোঁজা হচ্ছে।
এসএমপি মোগলাবাজার থানার ওসি আবুল হোসেন জানান, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান চালানো হচ্ছে। জেরিনের বিরুদ্ধে আদালতের একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে তার বাড়ি ও সন্দেহজনক সকল এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।
আত্মগোপনে থাকা আসামী জেরিনের বড় ভাই ফাহাদ জানান, তিনি ও তার পরিবারের লোকজন আতঙ্কে-ভয়ে বাড়ি ছাড়া। তার বোন জেরিন দীর্ঘদিন থেকে বাড়িতে নেই, তবুও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাড়িতে এসে তল্লাশির নামে হয়রাণি করে এবং জেরিনকে এনে না দিলে তাদেরকেসহ বাড়িতে যারা থাকেন সবাইকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতারের হুমকী প্রদান করে।
তিনি আরো জানান, জেরিনকে না পেয়ে ঘরের লোকদের ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল পুলিশ, তারা বাধা প্রদান করলে পুলিশ তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ঘরের মালামাল তছনছ করে বলে, জেরিনকে খুজে পেলে ধরে এনে ক্রসফায়ার করবে। আর না পেলে পরিবারের সবার খবর আছে বলে হুমকি প্রদান করে। ফলে পরিবারের সবাই ভীত সন্তস্থ্য। তবে পরিবারের লোকদেরকে হুমকী দেয়ার বিষয়টি সত্য নয় জানিয়ে মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ নেত্রীর বাড়ি লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তার জানা নেই। অথচ জেরিনের ভাই ফাহাদ জানান, তিনি লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।