স্টাফ রিপোর্টার
উপশহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মুহাইমিন চৌধুরী নাছিম বাবার ওপর লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত এবং ঘটনার কয়েক দিন পর তাকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে বিরোধীদলীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, রাত ২ টার সময় উপশহর এলাকার নিজ বাসায় যুবলীগ নেতা (গৌছ মিয়ে চৌধুরী )-এর বাবা (বয়স ৬০) হঠাৎ করে কয়েকজন ব্যক্তির দ্বারা আক্রান্ত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় ওই নেতা ও তার সহযোগীরা লাঠি দিয়ে তাকে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় আঘাত পাওয়ায় তাকে অন্তত কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ঘটনার পর পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানান স্বজনরা।
এ ঘটনার কয়েক দিন পর আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে আসে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে যুবলীগ নেতার বাবাকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি অজ্ঞাতনামা মাইক্রোবাসে করে তাকে রা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং দ্রুত বাবাকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, দিনের আলোতে এমন ঘটনা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “রাজনৈতিক বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু এভাবে একজন বয়স্ক মানুষকে হামলা ও অপহরণ করা মেনে নেওয়া যায় না।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিরোধীদলীয় দলের স্থানীয় এক কর্মী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টহল জোরদার করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।