সিলেট সুরমা ডেস্ক : সিলেট নগরীর যতরপুর এলাকাল শিবিরের সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম রাব্বি চৌধুরী সানির বাসায় সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪ ঘটিকার সময় সংঘটিত এ ঘটনায় সানির মা, চাচা, চাচাতো ভাইসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের ১৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ছাত্রনেতা ও যতরপুর এলাকার বাসিন্দা বর্তমান যুক্তরাজ্য প্রবাসী গোলাম রাব্বি চৌধুরী সানির বাসভবনে হঠাৎ করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাসায় প্রবেশ করে ভাংচুর চালায় এবং বাসায় উপস্থিত সদস্যদের ওপর হামলা করে। এতে সানির মা শাফিয়া বেগম, তার চাচাতো ভাইসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সানির চাচা ও সচেতন নাগরিক নেতা জামাল চৌধুরী জানান, বিকেলের দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সানির বাসায় প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং সানিকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায় যে, গোলাম রাব্বি চৌধুরী সানি দেশে আসলে তাহাকে প্রাণে হত্যা করা হবে।
ঘটনায় আহত সানির মা শাফিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা এবং বর্তমানে বিএনপিতে যোগদান করা রনি হোসেন ও তার সহযোগীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, রনি হোসেন পূর্বে সিলেটের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সানির সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন। পূর্বের রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন ৬ অক্টোবর স্থানীয় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। বরং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামি ও ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের এক স্থানীয় নেতা বলেন, “একজন পরিচিত ছাত্রনেতা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, আর সেই সুযোগে তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন।