ললীছড়ার উপর অবৈধ স্থাপনা অপসারণের দাবিতে গণস্বাক্ষর

sylhetsurma.com
প্রকাশিত মার্চ ২৮, ২০২৬
ললীছড়ার উপর অবৈধ স্থাপনা অপসারণের দাবিতে গণস্বাক্ষর

Manual4 Ad Code

সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের খিদিরপুর, দলইপাড়া, দত্তগ্রাম ও রুস্তমপুর এলাকার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ললীছড়া উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী গণসাক্ষর সম্বলিত আবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা খোশনুর রুবাইয়াতের কাছে প্রদান করা হয়েছে।

ওই ছড়ায় সরকারি জমি দখল করে ঘর বানানোর কারনে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এনিয়ে ক্ষুদ্ধ এলাকার লোকজনও।

গত ১৫ মার্চ গণসাক্ষর দেওয়া আবেদনে এলাকাবাসী উল্লেখ করেন, ললী খাল প্রাচীন একটি সরকারী ছড়া। এলাকার বাসিন্দাদের পরিত্যক্ত পানি প্রবাহের একমাত্র ভরসা এই খাল।

Manual6 Ad Code

গত কয়েক মাস ধরে খিদিরপুর ললীছড়ার উপর বেশ কিছু লোক অবৈধভাবে জমি দখল করে ছড়ার গতিপথ পরিবর্তন করে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করেছে। এ কারনে উৎকট দূর্গন্ধে এলাকার লোকজনের নাভিশ্বাস উঠেছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয় অবৈধভাবে সরকারী ছড়ার উপর স্থাপনা নির্মাণের ফলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ি ঘরের পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে ছড়ার পানির চলাচলে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এবং পানির চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী ছড়ার পানির গতিপথ পরিবর্তন করার কারনে বিপরীত দিকে পানি প্রবাহিত হয়ে এলাকার বাসিন্দাদের বাসাবাড়িতে প্রবেশ করছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারী ছড়ার উপর নির্মাণকারীদের কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র না থাকাস্বত্বেও তারা সরকারী ছড়ার উপর স্থাপনা নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছেন। এ কারনে ছড়ার পানিতে ময়লা আর্বজনা জমে দুর্গন্ধ হওয়ায় খিদিরপুর, দলইপাড়া, দত্তগ্রাম ও রুস্তমপুর এলাকাসহ আশপাশের এলাকার জীবজন্তু এবং বাসিন্দারা মারাত্মকভাবে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দুর্গন্ধের কারণে এলাকার মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং কৃষি কাজে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। ললীছড়াটি এলাকার একমাত্র পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম হওয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জোর দাবি জানান।

Manual2 Ad Code

আবেদনে জানানো হয়, লিটন, পাবনা, গোপাল, সুইটি, বিউটি ও অভিসন, আব্দুল নূর, হনুফা বেগম সহ অনেকেই অবৈধভাবে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে সরকারি খাল সঙ্কুচিত করে রেখেছেন। এলাকার লোকজন বার বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন জানালেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ গত ১০ মার্চ ললীছড়া খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

Manual6 Ad Code

ললীছড়ার উপর অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য গণস্বাক্ষরকারী তারেক আহমদ জানান, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারনে ছড়ার পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ছড়ার পানির মধ্যে ময়লা আবর্জনা জমাট বেধে পানির মধ্যে মারাত্মক দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার লোকজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, পাশাপাশি দুর্গন্ধের কারনে কৃষিখাতেও এর প্রভাব পড়ছে।

এলাকার আরেক বাসিন্দা জমির আহমদ বলেন, ললীছড়ার পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা থাকায় বর্ষা মৌসুমে ছড়ার ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি আশপাশের বাসা বাড়িতে প্রবেশ করে। এতে এলাকার লোকজনকে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ললীছড়া পুনরুদ্ধার করার দাবি জানান তিনি।

Manual6 Ad Code

এ ব্যপারে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনুর রুবাইয়াৎ জানান, দলইপাড়া, খিদিরপুর, দত্তগ্রাম ও রুস্তুমপুর এলাকার লোকজন গণসাক্ষর করে একটি আবেদন দিয়েছেন। তাদের আবেদনটি আমরা খতিয়ে দেখছি।