গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
গোলাপগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জিল্লু রহমান নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত জিল্লু রহমান গোলাপগঞ্জ থানার মদনগৌরী গ্রামের এলাই মিয়ার পুত্র। ০৩ সেপ্টেম্বর নিহতের গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাইদুর রহমান বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামীরা হলেন- গোলাপগঞ্জ থানার উত্তর বাঘা গ্রামের ওয়াতির আলীর পুত্র বাঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান, উত্তর বাঘা গ্রামের বাঘা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ শাহজাহানুর রহমান, উত্তর বাঘা গ্রামের মুহিবুর রহমানের পুত্র বাঘা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, উত্তর বাঘা গ্রামের মুহিবুর রহমানের স্ত্রী বাঘা ইউনিয়ন মহিলা লীগের সদস্য নাছিমা বেগম, কিসমত মাইজভাগ গ্রামের মৃত মাহমুদ খানের পুত্র ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ খান, টিকরবাড়ী গ্রামের আওয়া মিয়ার পুত্র পৌর যুবলীগ নেতা বাদশা আহমদ, রাম্পা গ্রামের লক্ষীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জেবুল আহমদ, ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত ছিদ্দিক আলী ঠিকাদারের পুত্র গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আলী আকবর ফখর, মাইজভাগ ভাদেশ্বর গ্রামের উজ্জ্বল আহমদ সিরাজের পুত্র সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, শেরপুর গ্রামের জেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদুর রহমান চৌধুরী, মাইজভাগ কলাশহর ভাদেশ্বর গ্রামের মৃত মাহতাব উদ্দিনের পুত্র উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জহির উদ্দীন মাস্টার, কানিশাইল গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের পুত্র গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খয়রুল হক, দক্ষিণ কানিশাইল গ্রামের মৃত মদন মিস্ত্রীর পুত্র যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, দক্ষিণ কানিশাইল গ্রামের আজির উদ্দিনের পুত্র আওয়ামী লীগ নেতা রাজু আহমদ মেম্বার, পশ্চিম খর্দাপাড়া গ্রামের মৃত ফারুক মিয়ার পুত্র যুবলীগ নেতা শাহিন আলম সাহেদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ০৫ আগস্ট ২০২৪ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদফা দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের এমসি একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে একটি মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে তৎপেতে থাকা একদলবদ্ধ ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় গুলিবর্ষণ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার সময় স্থানীয় জনতা আন্দোলনকারীদের রক্ষায় এগিয়ে এলে সংঘর্ষ আরও ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন জিল্লু রহমান। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।