জৈন্তাপুরে এসআই ইলিয়াস আহমদের সন্ত্রাসীবাহিনীর হামলায় আহত হুসেন আহমদ ও তার ঘরের ১টি কক্ষ ভাঙচুরের পরবর্তী দৃশ্য
জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত সরুফৌদ গ্রামে সন্ত্রাসী হামলা ও তান্ডব চালিয়েছে দূর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়েছেন হুসেন আহমদ (৫৬) নামের এক প্রবীন ব্যক্তি। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮ ঘটিকার দিকে উপজেলার ৪নং দরবস্ত ইউনিয়নের সরুফৌদ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
খবর নিয়ে জানা যায়, পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর ইলিয়াস আহমদের প্রাক্তন স্ত্রী ছিলেন মোগলাবাজার থানাধীন জালালপুর ইউনিয়নের মোকামদোয়ার গ্রামের সফিক মিয়ার মেয়ে মাসুমা বেগম। পরবর্তীতে ইলিয়াস আহমেদের সহিত ডিভোর্স হওয়ার পর জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত সরুফৌদ গ্রামের হুসেন আহমদ এর পুত্র বুরহান উদ্দিনের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। এতেই ইলিয়াস আহমেদ বুরহান উদ্দিনের প্রতি ক্ষিপ্ত হতে থাকেন। বুরহান উদ্দিন মাসুমা বেগম কে বিয়ে করার পর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। গতকাল বুরহানের বাড়ীতে হামলা হলেও এর মাত্র ৪দিন আগে ১০ এপ্রিল তার শ্বশুর বাড়ি অর্থাৎ মোকামদুয়ার গ্রামের সফিক মিয়ার বাড়ীতে হামলা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বুরহান উদ্দিন মাসুমা বেগম কে বিয়ে করার কারণে প্রথমে তার শ্বশুর বাড়ি অর্থাৎ সফিক মিয়ার বাড়ী ও পরবর্তীতে গতকাল তার বাড়িতে হামলা চালায় এসআই ইলিয়াস আহমদের সন্ত্রাসী বাহিনী। জানা যায়, তার শ্বশুর বাড়িতে হামলায় ১টি কক্ষ ও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ ড্রইং রুমের ১টি কাঁচের জানালা ও ১টি আলমারি ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বুরহান উদ্দিনের স্ত্রী মাসুমা বেগম জানান।
তিনি আরো জানান, তার সাবেক স্বামী ইলিয়াস আহমদ খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। সে অবৈধ টাকা উপার্জন, নিরীহ মানুষদের হয়রানী, নারী লোভী লোক। তার প্রভাব ও অবৈধ টাকায় সিলেটে ৬/৭ জনের একটি গ্রুপ রয়েছে। বিভিন্ন সময় তাদের মাধ্যমে নিরীহ মানুষদের হয়রানি নির্যাতনসহ নানা অপরাধ সংগঠন করে তাকে। বিনিময়ে এসআই ইলিয়াস আহমদ তাদেরকে অর্থ দিয়ে থাকেন।
এদিকে গতকালের ভাঙচুরের ঘটনায় বুরহান উদ্দিনের অন্তত ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। তার বাড়ীর ২টি কক্ষের ১টি ছকেস, ১টি আলমারী, ২টি চেয়ার, ১টি পালংসহ মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর হয়েছে। তাছাড়া বুরহান উদ্দিনের স্ত্রীকে, ভাই,বোনদের উপর হামলা করে এবং বুরহান উদ্দিন এর স্ত্রীর স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বোরহান উদ্দিন এর পিতা বাধাঁ প্রদান করিলে তাহাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তিনি রক্তাত হয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হোন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ইলিয়াস আহমেদ প্রশাসনের লোক ও প্রভাবশালী হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে দাবী এলাকার সচেতন মহলের। তিনি নিরীহ মানুষকে হয়রানীসহ বিনা অপরাধে মামলা-গ্রেফতার ও অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চলিত বছরের গত ০৫ ফেব্রুয়ারী মাসুমা বেগমের বর্তমান স্বামী বুরহান উদ্দিনের উপর সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ইলিয়াস আহমেদের মদদে গত ৮ এপ্রিল তাহাকে গ্রেফতার করিয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ কারাগারে পাঠায়। এ মিথ্যা বানোয়াট মামলায় এখনো তিনি কারাগারে আছেন। একমাত্র মাসুমা বেগম কে বিয়ে করার কারণে বুরহান উদ্দিন কারাগারে আছেন ও তার বাড়িতে হামলা ভাঙচুর হয়েছে। হুসেন আহমদের বাড়ীতে ভাঙচুর ও তার উপর হামলা, তার ছেলের উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করে কারাগারে প্রেরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এলাকাবাসী। তারা বুরহান উদ্দিনের মুক্তি কামনা করেন।
এদিকে ভিক্টিম হুসেন আহমদ জৈন্তাপুর পুলিশের নিকট লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলেও তা নেয়া হয়নি বলে জানা যায়।তিনি সংবাদ মাধ্যম কে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা অথচ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ কোন অভিযোগ গ্রহণ করে নাই।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান এর মুবাইল ফোনে বার বার ফোন দিলেও কোন সাড়া মেলেনি।