সিলেট সুরমা ডেস্ক : লন্ডন প্রবাসী সিলেট মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা অমর শেখ জনির বাসায় সাদা পোশাকধারী পুলিশের তল্লাশির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও ছাত্রদল নেতাকর্মী ও সিলেট বিএনপি নেতা সিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে লুটপাট, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন অমরের পরিবার। ঘটনাটি ঘিরে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সকালে অমরের বাবা সফর আলী তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে এ প্রতিবেদককে জানান, ভোররাতে সাদা পোশাকধারী পুলিশের একটি দল তাদের বাসায় অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীকেও দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, কাজী মেরাজ, সেফুল মিয়া, রাহীয়ান, তানভীর, রানাসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রদলের নেতাকর্মী যারা সিলেট মহানগর বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ মিয়ার অনুসারী বলে পরিচিত তারা পুলিশের সাথে এসে হুমকি ও লূটপাট ভাংচুর চালায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সিরাজ মিয়া আমার ছোট ছেলে অমরের শ্বশুর। পরিবারের অমতে সে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করে লন্ডনে চলে যায়। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ার কারণে সিরাজ মিয়া প্রথম থেকেই এই বিয়ে মেনে নেননি। লন্ডন চলে যাওয়ার পর তিনি তার মেয়েকে ইমশোনালি ম্যানেজ করে আমার ছেলের সাথে মনোমালিন্য তৈরী করে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেন। বর্তমানে উনার মেয়ে লন্ডনে আমার ছেলেকে ছেড়ে তার বাবার কথায় অন্য কোথাও চলে গেছে।”
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ২ সপ্তাহ আগে বিএনপি দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসার পর থেকেই সিরাজ মিয়া প্রতিনিয়ত আমার ছেলেকে লন্ডনে ও আমিসহ আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হুমকি প্রদান করে যাচ্ছেন। তবে, শেষপর্যন্ত তিনি গতকাল রাতে পুলিশ ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে আমাদের হেনস্থা করেছেন। তিনি আরও জানান, তল্লাশির সময় বাসা থেকে একটি ল্যাপটপ এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে তিনি পরিকল্পিত হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে সিলেট শাহপরাণ থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম আহমদ বলেন, বিভিন্ন মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধরার রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে অমর শেখ জনির বাসায় তল্লাশী চালানো হয়েছে। হুমকি, লুটপাট, ভাংচুরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি সেলিম আহমদ বলেন, “পুলিশকে বাসা চিনিয়ে দিতে স্থানীয় ২/৩ জন যুবকের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কিনা, সেটি আমার জানা নেই।” এরপর তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কলটি সংক্ষিপ্ত করেন।
এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে সিলেট মহানগর বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ মিয়াকে বেশ কয়েকবার কল ও টেক্সট মেসেজ করা হলেও তিনি যোগাযোগ করেন নি।
এদিকে লন্ডন বাসায় তল্লাশি ও ছাত্রদল-শিবির নেতাকর্মীদের উপস্থিতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ। মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিবৃতিতে এ ঘটনাকে “গণতন্ত্রের পরিপন্থী” বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এক ভিডিও বার্তায় ছাত্রলীগ নেতারা দাবি করেন, “মব সৃষ্টি করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। দেশে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নেই।” তারা ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগকৃত ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।