সিলেট সুরমা ডেস্ক : সিলেটের বালাগঞ্জ থানাধীন বোয়ালজুর বাজার এলাকায় পূর্ববিরোধের জের ধরে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন শাহ ইসমাইল আলী (২৮) নামে এক যুবক। ঘটনার পরদিন নিহতের বড় বোন মোছাঃ হেনা বেগম (৩৭) বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় ১৫ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করেছেন।
বিরোধের সূত্রপাত
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বালাগঞ্জ থানাধীন উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার/মাহফিল-পূর্ব অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত হাসান খান উত্তেজিত হয়ে সাক্ষী শাহ মামুন আলীর মৃত বাবাকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেন, যার জের সেই রাতেই আরেকদফা গড়ায়Ñনাফিসা ফার্নিচারের দোকানের বারান্দায় শাহ মামুন আলীকে একা পেয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
এজাহারে বলা হয়েছে, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত অনুমান ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে অভিযুক্তরা পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বোয়ালজুর বাজারে জড়ো হন। নিহত শাহ ইসমাইল আলীকে আশিক মিয়ার তাহসিম ফাস্টফুডের দোকানের সামনে দেখতে পেয়ে অভিযুক্ত সিরাজুম্মান খান হুকুম দেন বলে অভিযোগ, এরপর একে একে অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এজাহারে গলা, মাথা, পিঠ, বুক, ঠোঁট, নাক, হাঁটু ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের উল্লেখ রয়েছে।
চিকিৎসা ও মৃত্যু
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উসমানীনগর থানাধীন তাজপুর বাজারের একটি হাসপাতালে, পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এজাহারে উল্লেখিত অভিযুক্তরা
মামলায় নামোল্লেখিত ১৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ /২০ জন সহ আসামি করা হয়েছে। নামোল্লেখিত অভিযুক্তরা হলেনÑ হাসান খান (৩২), পিতা-সিরাজুজ্জামান খান মঙ্গু খাঁ, সাং-খারমাপুর সুমন মিয়া (২৫), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-বানীগাঁও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৬), পিতা-মনির আরশাদ আলী, সাং-মৈশাষী সুজিবুর রহমান সুজি (৪০), পিতা-মৃত শহীদ দর্জি, সাং-খারমাপুর কাইয়ুম মিয়া (৩৫), পিতা-মছব্বির মিয়া, সাং-খারমাপুর সিরাজুজ্জামান খান ওরফে মঙ্গু খাঁ (৫৫), পিতা-মৃত আফরোজ খান, সাং-খারমাপুর ইমরান মিয়া (২৫), পিতা-মছব্বির মিয়া, সাং-খারমাপুর নাঈম মিয়া (২৫), পিতা-গৌছ আলী, বর্তমান সাং-খারমাপুর (স্থায়ী সাং-মিঠাপারা, গোয়ালাবাজার, থানা-ওসমানীনগর) রাকিব মিয়া (২২), পিতা-আব্দুল লতিফ, সাং-খারমাপুর তোফায়েল আহমেদ (২৮), পিতা-মছব্বির মিয়া, সাং-খারমাপুর জুয়েল আহমদ (২৮), পিতা-গৌছ আলী, বর্তমান সাং-খারমাপুর (স্থায়ী সাং-মিঠাপারা, গোয়ালাবাজার, থানা-ওসমানীনগর) সিলিজ মিয়া (৪৫), পিতা-মৃত বারিক মিয়া, সাং-খারমাপুর রায়হান মিয়া (২৫), পিতা-সিলিজ মিয়া, সাং-খারমাপুর শাকিল মিয়া (২৫), পিতা-আব্দুল লতিফ, সাং-খারমাপুর তামিম মিয়া (১৯), পিতা-মৃত আছকির মিয়া, সাং-খারমাপুর এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাক্ষী
মামলায় সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মোত্তাকিন মিয়া, আবদাল মিয়া, আজাদুর রহমান, শফিকুর রহমান, খলকু মিয়া, শাহ কালাম ও শাহ মামুন আলীসহ মোট ৭ জন।
পুলিশি পদক্ষেপ
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ঘটনার পর নিহতের ময়নাতদন্ত ও দাফন-কাফন সম্পন্ন হওয়ার পর আত্মীয়স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়। বর্তমানে বালাগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।