সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সুরতুন্নেছা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তিশিল্প নিয়ে একটি পরিচিতিমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন তামিমের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে নবম ও দশম শ্রেণির ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে অনুষ্ঠিত সেমিনারে তামিমের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বন্ধু মোশাররফ হোসেন। উল্লেখ্য, এই ল্যাবেই একসময় তামিম নিজে ক্লাস করতেন। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর (কম্পিউটার) আলী আহমদসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
সেমিনারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলে কী, এটি কীভাবে কাজ করে, শিক্ষাজীবনে ও ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কতটা এসব বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের সামনে হাতে-কলমে কয়েকটি এআই টুল ব্যবহার করে দেখানো হয় এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।
তামিম বলেন, “আমি নিজে এই ল্যাবেই ক্লাস করেছি। তখন প্রযুক্তি নিয়ে জানার সুযোগ খুব কম ছিল, সবকিছু নিজে খুঁজে খুঁজে শিখতে হয়েছে। জুনিয়রদের যেন আমার মতো সময় নষ্ট করতে না হয়, সেজন্যই এই আয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “এআই এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, এটি বর্তমান। শিক্ষার্থীরা যদি স্কুল পর্যায় থেকেই এর সঙ্গে পরিচিত হয়, তাহলে আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রে তারা অনেক এগিয়ে থাকবে।”
যেভাবে শুরু
তামিমের প্রযুক্তি খাতে যাত্রা শুরু ২০২২ সালে। এসএসসি পরীক্ষা শেষে অবসর সময়টুকু কাজে লাগাতে তিনি একটি ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে ভর্তি হন। সেখান থেকেই শুরু হয় নিয়মিত শেখার অভ্যাস।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান Ripplix-এ লিড প্রোডাক্ট মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির একটি নতুন প্রোডাক্টের ফাউন্ডিং টিমের সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন, যা শিগগিরই বাজারে আসার কথা রয়েছে।
চাকরির পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগ নিয়েও কাজ করছেন এই তরুণ। Matriks Lab নামে একটি এআইভিত্তিক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ করছেন তিনি, যা বর্তমানে উন্নয়নাধীন রয়েছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে।
দৈনন্দিন রুটিন প্রসঙ্গে তামিম জানান, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েই তাঁর পূর্ণ মনোযোগ। “দিনে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করি। এআই এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ, এটি নিয়ে সিরিয়াস না হয়ে উপায় নেই,” বলেন তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “ইন্টারনেট থাকলে নিজের এলাকায় বসেও আন্তর্জাতিক মানের কাজ করা যায়। শুধু ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হয়। আমি চাই আমাদের এলাকা থেকে আরও অনেকে প্রযুক্তি খাতে আসুক।”
সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার আগ্রহ প্রকাশ করে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে কানাইঘাটের আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের সেমিনার করার পরিকল্পনা রয়েছে।