আপন নগরে মুক্ত নিশ্বাস, ছাড়া পেলেন আরিফ-গউছ

প্রকাশিত: ১১:০১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার

আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গউছ কারামুক্ত। দুজনই একই দলের অনুসারি একজন সিলেট সিটি করপোরেশনে মেয়র এবং অন্যজন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র। দুজনই বিএনপির কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য । একই মামলায় কারাবরণ করেছেন দুজনই। দুজনই স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের আদেশে সাময়িক বহিষ্কৃত মেয়র। এর মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরী কারা বরণ করেছেন দুই বছর ৫ দিন এবং জি কে গউছ কারা বরণ করেছেন ২ বছর ৮ দিন। তবে মুক্তিও পেয়েছেন কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামী হিসেবে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আরিফ। ওইদিন আদালত তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এরপরে অবশ্য আরিফ ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ থেকে অসুস্থ মাকে দেখার জন্য ১৫ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্ত ছিলেন।
২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় এক আদেশে আরিফুল হককে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বহিস্কার করে। জি কে গউছও সে সময় স্থানীয় সরকারের মন্ত্রনালয়ের আদেশে সাময়িক বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে কারাগারে অবস্থান করেই আবারো মেয়র নির্বাচিত হন জি কে গউছ। এরপর আবারো ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সাময়িক ভাবে বহিষ্কৃত হন।
দীর্ঘ ২৪ মাস কারাবরণের পর সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভা মেয়র জি কে গউছ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা এবং সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় বোমা হামলার দুটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর গতকাল নিন্ম আদালতেও সে আদেশ বহাল রাখে। এতে বুধবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মেয়র আরিফ। পরে রাত ৮টার দিকে মুক্তি পান জি কে গউছ।
এসময় সিলেট সিটিপ করপোরেশনের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর ও বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে ভিড় জমাতে থাকেন। পরে বিকেল সোয়া ৫টায় আরিফুল হক চৌধুরী মুক্তি পেলে গাড়ি বহরে করে নগরীর কুমাড়পাড়ার নিজবসায় ফিরেন। এর কিছুক্ষণ পরই হবিগঞ্জের বহিষ্কৃত মেয়র জি কে গউছের মুক্তির খবরে ছুটে যান দীর্ঘ দুই বছর বন্দি জীবন সঙ্গীকে কারা ফটকে বরণ করতে।
এর আগে গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও মির্জা হোসেইন হায়দার।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কিশোর কুমার কর বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে বুধবার আরিফুল হক চৌধুরী তার ব্যবহৃত পাসপোর্ট আইনজীবীর মাধ্যমে দায়রা জজ আদালতে জমা দেন। ’
আদালত সূত্র জানায়, প্রডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডাব্লিউ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরিফুল হক চৌধুরীতে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন সিলেট জেলা দায়রা জজ। গতকাল বুধবার আসামিপক্ষ আদালতে আরিফুল হক চৌধুরীর জামিনের কাগজপত্র দেখান। আদালত শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন।
গতকাল বুধবার সকালে একই আদালতে সিলেটের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পাশাপাশি হাজির করা হয় হবিগঞ্জের বরখাস্তকৃত মেয়র জিকে গৌছকে। তারা দু’জনই সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এস কিবরিয়া এবং আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বিস্ফোরণ ও হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারান্তরীণ। দু’টি ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক মামলাসহ মোট চারটি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কিশোর কুমার জানান, ‘আমার কাছে আরিফুল হকের প্রাকশন ওয়ারেন্ট (পিডাব্লিউ) ছিল। যা শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।’
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ছগীর মিয়া জানান , ‘আরিফুল হক চৌধুরীর জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর পর্যবেক্ষণ শেষে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে জি কে গউছের জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌছাতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয় রাত ৮টার দিকে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগে পাঠানো হয়।
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বোমা হামলা মামলায় গত ১১ ডিসেম্বর সিলেট সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছকে ছয় মাসের জামিন দেন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এদিকে ২০০৪ সালের ২১ জুন দুপুরে দিরাইবাজারে একটি সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সেই বোমা হামলায় এক যুবলীগকর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই সময় উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে দিরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াসহ পাঁচজন নিহত হন। গ্রেনেড হামলার এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ