বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে মিন্নাত আলীর স্বপ্ন

sylhetsurma.com
প্রকাশিত জুলাই ১৬, ২০২৪
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে মিন্নাত আলীর স্বপ্ন

Manual6 Ad Code

আট সন্তানসহ ১১ সদস্যদের পরিবার। এর মধ্যে আবার তিন সন্তান বাক্‌প্রতিবন্ধী। তার পরও পরিশ্রমী সবজিচাষি মিন্নাত আলীর সংসার মোটামুটি চলে যাচ্ছিল। ব্যাংক থেকে ঋণ আর নিজের মেহনতে এবারও সবজি চাষে দেখেছিলেন আশার আলো। কিন্তু বানের জলে সবকিছু যেন নিমেষেই শেষ হয়ে গেছে। কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, আর কীভাবেই বা সংসারের খরচ জোগাবেন, তার কুলকিনারা পাচ্ছেন না।

Manual3 Ad Code

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের যোগলনগর গ্রামের বাসিন্দা মিন্নাত আলী সংসারের অভাব দূর করতে গত পাঁচ বছর ধরে বাড়ি পাশে কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সবজি চাষ শুরু করেন। নিজেই চাষ করতেন, আবার বাজারে নিয়ে বিক্রি করতেন। সবজি চাষে বেশ ভালোই চলছিল তার সংসার। চলতি মৌসুমে কৃষি ব্যাংক থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ির পাশে ৫ কেদার (১ কেদার সমান ৩০ শতক) জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেন। তাঁর চাষকৃত সবজির মধ্যে ঢ্যাঁড়স, পাটশাক, পটোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, চালকুমড়ার ফলনও বেশ ভালো হয়েছিল।তবে সেই ফসল আর ঘরে তোলা হয়নি মিন্নাত আলীর। ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সবকিছু তলিয়ে যায়। টানা এক মাস ধরে তলিয়ে থাকা সবজিখেতে এখন শুধু পানি আর পানি। নষ্ট হয়ে গেছে সব ফসল।

Manual8 Ad Code

মিন্নাত আলী বলেন, ‘১১ সদস্যের সংসার। এর মধ্যে আবার তিন সন্তান বাক্‌প্রতিবন্ধী। আমি ছাড়া আমার সংসারে রোজগারের আর কেউ নেই। কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নিজের অল্প একটু জমি আর আত্মীয়স্বজনের জমিতে সবজি চাষ করে বেশ ভালোই চলছিল অভাবের সংসার। গেল মৌসুমে প্রায় লাখ টাকার মতো লাভ হয়েছিল। তাই এবার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৫ কেদার জমিতে সবজি চাষ করি। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু ঘরে তোলা আর হলো না। বানের জলে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে।’

Manual6 Ad Code

তিনি আরও বলেন, ঠিকমতো সবজিগুলো তুলতে পারলে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হতো। এখন নিজেরা কী খাব আর ঋণই বা পরিশোধ করব কীভাবে? চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, ‘মিন্নাত আলী একজন আদর্শ কৃষক। কৃষির প্রযুক্তি ব্যবহার ও নতুন জাত সম্প্রসারণে সে একজন অগ্রগামী। তিনি সবজি চাষের মধ্য দিয়ে পরিবারে সচ্ছলতা নিয়ে এসেছেন। আমরা তাঁকে সব সময় সহযোগিতা করেছি। তবে এবারের বন্যায় তিনি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংশ্লিষ্ট মহলে পাঠিয়েছি। কোনো ধরনের প্রণোদনা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হলে অবশ্যই তাকে দেওয়া হবে।