বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে আওয়ামীলীগের ভেতরের মানুষদের চক্রান্ত ছিল : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০১৭

সিলেট সুরমা ডেস্ক : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পেছনে আওয়ামী দলের ভেতরের মানুষদের চক্রান্তও দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রপতি হওয়া খন্দকার মোশতাক আহমেদের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আরও অনেকে এর মধ্যে জড়িত ছিল, এই ষড়যন্ত্রের সাথে।’ বঙ্গবন্ধু হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা।এই দিনটিকেও আওয়ামী লীগ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করে। দিনটিতে সকালে দলের নেতা-কর্মীরা শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য যান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এ সময় তিনি আক্ষেপের সুরে এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আসলে ঘরের শত্রু বিভীষণ। ঘরের থেকে শত্রুতা না করলে বাইরের শত্রু সুযোগ পায় না। সে সুযোগটা (তারা) করে দিয়েছিল।’ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে অনেকেই তাকে সাবধান করলেও তিনি কিছুই বিশ্বাস করেননি বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আব্বা বলতেন, ওরা তো আমার ছেলের মত, আমাকে কে মারবে?’। বঙ্গবন্ধু হত্যার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুতে হয়ে পড়েন তার কন্যা। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে ছয় বছর প্রবাসী জীবনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বারবার গলা ধরে আসে তার। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা অনেকেই ধানমণ্ডি ৩২ নম্ব্রর বাড়িতে নিয়মিত যেত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডালিম, ডালিমের শাশুড়ি, ডালিমের বউ, ডালিমের শালী ২৪ ঘণ্টা আমাদের বাসায় পড়ে থাকত।’ খুনি মেজর নূর চৌধুরীর নিজের ভাই শেখ কামালের সঙ্গেই মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীর এডিসি হিসাবে কাজ করত বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘খুব দূরের না। এরাই ষড়যন্ত্র করল।’ বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার অভিযোগও করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘মোশতাক রাষ্ট্রপতি হয়ে জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করে। তাদের মধ্যে অবশ্যই যোগসাজশ ছিল।’ জিয়াউর রহমানও সপ্তাহে একদিন তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে যেতেন বলে জানান শেখ হসিনা। বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাড়ি দুয়ার সবার জন্য অবারিত ছিল, যার সুযোগ ষড়যন্ত্রকারীরা নিয়েছিল।’ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন শেখ হাসিনা ছিলেন বেলজিয়ামে। সেখানেই তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যখন জানতে পারলাম, তখন সহ্য করাটা কঠিন ছিল।’
বেলজিয়াম থেকে জার্মানি হয়ে ভারতে আসেন শেখ হাসিনা। এই স্মৃতি বলতে গিয়ে আবার কাঁদতে থাকেন তিনি। বলেন, ‘ভাবলাম দেশের কাছে যাই। কখনও শুনি, মা বেঁচে আছে। কখনও শুনি, রাসেল বেঁচে আছে। একেক সময় একেক খবর পেতাম। ওই আশা নিয়ে চলে আসলাম। কেউ বেঁচে থাকলে ঠিক পাব।’
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নয় দিন পর দিল্লিতে পৌঁছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে পরিবারের সবার হত্যার কথা প্রথম জানতে পারেন বলে জানান শেখ হাসিনা।
ভারতে থাকার সময় ১৯৭৭ সালে শেখ রেহানার বিয়ে হয় লন্ডনে। কিন্তু টাকার অভাবে সেখানে যেতে পারেননি শেখ হাসিনা। তিন বছর পর রেহানার বাচ্চা হওয়ার সময় ইন্দিরা গান্ধী তাকে লন্ডনে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন বলে জানান তিনি।
শেখ হাসিনা ভারতে থাকার সময়ই তাকে আওয়ামী লীগ দলীয় সভাপতি নির্বাচিত করে। এরপর তিনি দেশে ফিরে আসেন। দলের দায়িত্ব গ্রহণ সহজ কাজ ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এত বড় সংগঠন করার অভিজ্ঞতাও আমার ছিলে না। আমার চলার পথ অত সহজ ছিল না।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ