বরিশালে বিএনপি প্রার্থী আহত, কিশোরগঞ্জে গুলি, লক্ষ্মীপুরে এ্যানী আহত, মওদুদ, প্রিয়াংকার গাড়িবহরে হামলা
দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের প্রচারণা ও সমাবেশে হামলা : নিহত ২

প্রকাশিত: 4:24 AM, December 25, 2018

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>বরিশালে বিএনপি প্রার্থী আহত, কিশোরগঞ্জে গুলি, লক্ষ্মীপুরে এ্যানী আহত, মওদুদ, প্রিয়াংকার গাড়িবহরে হামলা</span> <br/> দেশের বিভিন্ন স্থানে  প্রার্থীদের প্রচারণা ও সমাবেশে হামলা : নিহত ২

সিলেট সুরমা ডেস্ক : গুরুতর আহত শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণা ও সমাবেশে ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটেছে গতকাল। বিভিন্ন স্থানে হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন বিরোধী প্রার্থীরাও। খাগড়াছড়িতে ব্রাশফায়ারে মারা গেছেন দুই ব্যক্তি। স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয়ে হামলা অগ্নিসংযোগের পর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদের প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জে বিএনপির শরিফুল আলম ও বরিশালে সরদার সারফুদ্দিন আহমেদ সান্টু হামলায় আহত হয়েছেন। এছাড়া শেরপুরে ডা. সানসিলা জেবরিন-এর প্রচারে হামলা হয়েছে।

নোয়াখালীতে ভাঙচুর করা হয়েছে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গাড়িবহর।

খাগড়াছড়ির পানছড়ির পুজগাং বাজারে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে এক বাঙালি শ্রমিক ও এক ইউপিডিএফ কালেক্টর সহ দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, হাটহাজারীর দেওয়ান বাড়ী উপজেলা চিপাতলী এলাকার আব্দুর মান্নানের ছেলে মো. সোহেল রানা (৩২)। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। অপরজন পানছড়ি চেঙ্গী ইউনিয়নের লেন্ডিয়া পাড়ার রত্না কান্তি চাকমার ছেলে উজ্জ্বল বিকাশ চাকমা চিক্কু (৩০)। তিনি পুজগাং এলাকার ইউপিডিএফ কালেক্টর বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর ১২টার দিকে ১০/১৫ জন পাহাড়ি সন্ত্রাসী পুজগাং বাজারে এলোপাতারি গুলি ছুড়ে। ঘটনার পর পুজগাং বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। জানা যায়, এলাকাটি ইউপিডিএফ (প্রসীত) এর অধ্যুষিত এলাকা। ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের কেন্দ্রীয় নেতা মাইকেল চাকমা এ ঘটনার জন্য জেএসএস (এমএন) গ্রুপকে দায়ী করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএস (এমএন) গ্রুপের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, এলাকাটি ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপ অধ্যুষিত। এখানে অন্য কোন সংগঠনের কার্যক্রম নেই। পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আলম ঘটনাটি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
ইউপিডিএফ মুখপাত্র মাইকেল চাকমা জানান, ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় কার্যালয়ে আগুন দেয়া হয়। এরপর সন্ত্রাসীরা নির্বাচনী কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ব্রাশফায়ার করতে করতে পালিয়ে যায়। এতে দুজন নিহত হয়।

শরীয়তপুরে বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিনের ওপর হামলা
শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদসহ তার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। এতে নুরুদ্দিন মাথা ও ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন। এ ছাড়া দলের ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নুরুদ্দিন নেতা-কর্মীদের নিয়ে গোসাইরহাট উপজেলার কুদালপুর থেকে মিছিল করে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিছিলটি সদরের পট্টি এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে নুরুদ্দিন মাথা ও ঘাড়ে আঘাত পান। নেতা-কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কুদালপুর ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। হামলার ঘটনায় ওই এলাকায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরে আহত মিয়া নুরউদ্দিনকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। নুরউদ্দিন দাবি করেন, তাকে মেরে ফেলার জন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে। তিনি এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন। বেলা একটার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ও গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা নুরউদ্দিনকে দেখত হাসপাতালে আসেন। আলমগীর বলেন, বিএনপির প্রার্থী গোসাইরহাটে যাবেন, তা তাদের জানা ছিল না। হামলার এ ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওসি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরিশালে বিএনপি- আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ, গুলি
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর প্রচারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রার্থী সান্টুও ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। সোমবার (২৪শে ডিসেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে বানারীপাড়া পৌরসভার সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধানের শীষের প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বানারীপাড়া উপজেলায় গণসংযোগ শেষে উজিরপুরে ফিরছিলেন। বানারীপাড়া পৌরসভার সামনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহে আলম সমর্থকদের ৩০ থেকে ৪০ জন সান্টুর গাড়িবহরে হামলা করেন। সান্টুর নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক মাজেদ তালুকদার মান্নান বলেন- ‘পৌর এলাকার কাছাকাছি আসতেই যুব ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিএনপি প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা করে। তারা প্রার্থীকে বহনকারী মাইক্রোবাসসহ মোট তিনটি মাইক্রোবাস, দুটি মোটরসাইকেল ও সাতটি থ্রি-হুইলার ভাঙচুর করে। বরিশাল জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈনুল বলেন- ‘শুনেছি বানারীপাড়া পৌরসভা এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। এসময় সেখানে মারামারি এবং গোলাগুলি হয়েছে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

শেরপুরে প্রিয়াংকার গাড়িবহরে হামলা
শেরপুর-১ (সদর) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকার গাড়ির বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২৪শে ডিসেম্বর সোমবার বিকালে সদর উপজেলার ঘুঘুরাকান্দি এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় প্রিয়াংকার পাজেরো গাড়ি ভাঙচুর এবং তার আত্মীয়সহ ১০ নেতা-কর্মী আহত হন। পরে প্রার্থী প্রিয়াংকা ওই ঘটনার বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে সঙ্গে থাকা জেলা বিএনপি নেতা হাতেম আলীসহ ১১ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে প্রিয়াংকার গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও নেতা-কর্মীদের আহত করা এবং ওই ঘটনায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে উল্টো নেতা-কর্মীদের আটকের ঘটনায় সর্বত্র উদ্বেগ-আতঙ্কের পাশাপাশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বগুড়ায় বিএনপি প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা, আহত ১২
বগুড়া-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজের নির্বাচনী প্রচার বহরে হামলা করে ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় নির্বাচনী গণসংযোগে বের হন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জিএম সিরাজ সহ শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী। প্রথমে শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ধানের শীষ প্রতিকের গাড়ি বহর শেরপুর শহরতলীর দুবালাগাড়ী, চকপোতা, বাগড়া, বাগড়া কলোনি হয়ে কুসুন্বি বোডের হাট যাবার কথা। এরপর গোসাইবাড়ী বটতলা বাজারে পথসভায় যাবার সময় ধানের শীষ প্রতীকের গাড়ি বহরটি রাস্তায় বাধাপ্রাপ্ত হন। এসময় শেরপুর থানার একদল পুলিশ গোসাইবাড়ী বাজারের পাশে খালের ওপরে জিএম সিরাজের নির্বাচনী গাড়ি বহরটি রাস্তায় আটকে দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ২০-২৫ বছর বয়সের প্রায় ১৫ জনের একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির গাড়ি বহরে হামলা চালায়। এসময় জিএম সিরাজ, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবার রহমান হারেজ সহ অসংখ্য নেতাকর্মী ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

বাগেরহাট-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম বাগেরহাট প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, গত দুদিনে তার আসনে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩০ নেতাকমী আহতসহ জেলা বিএনপির অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে তার দলের ৫০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষের কর্মীরা। আহতদের বাগেরহাটের বাইরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র প্রার্থী এম এ সালাম আরও দাবি করেন বিএনপি’র প্রার্থীর প্রচারে মাইকিং করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। পোস্টার লাগালে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এমনকি জেলা বিএনপি অফিসে হামলার পর কাউকে অফিসে আসতে বাধা দেয়া হচ্ছে। বাগেরহাট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ১৭ বার লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কোন প্রতিকার পাননি বলে বিএনপি’র এই প্রার্থী অভিযোগ করেন। পুলিশের গ্রেপ্তারসহ নৌকার সমর্থকদের অব্যাহত হামলার পরও বিএনপি নির্বাচনী মাঠে থাকবে ও ভোটাররা নির্বাচনে ভোট দিতে পারলে বিএনপি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপি’র প্রার্থী এম এ সালাম।

নোয়াখালীতে ব্যারিস্টার মওদুদের গাড়িতে হামলা, আহত ৮
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে। এতে তার গাড়ি ও বহরের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ হামলায় মওদুদের ৮ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বিএনপির এই প্রার্থী অভিযোগ করেছেন এ ঘটনার পর এ নির্বাচনী এলাকায় তার জীবনের নিরাপত্তা নেই। মওদুদের দাবি, ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা মারধর করে এবং নির্বাচনী প্রচারের সময় সিএনজি গাড়ি ভাঙচুর করে পানিতে ফেলে দেয়। সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদেরকে ইঙ্গিত করে মওদুদ বলেন, আমার প্রতিপক্ষ প্রকাশ্যে পথসভায় গত ১০ ও ১১ই ডিসেম্বর বলেছেন, ধানের শীষের পোষ্টার লাগানো যাবে না। আমাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। তার ঘোষণা অনুযায়ী তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা এ ব্যাপারে উজ্জীবিত হয়ে পুরো এলাকা জুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতেছে।

সোমবার সকাল থেকে চরকাঁকড়া ও সিরাজপুর ইউনিয়নের গণসংযোগের কথা ছিল। বিষয়টি ওসিকে অবহিত করা হয়েছে। যখন আমি সকাল ১১টায় নতুন বাজারে পৌঁছলাম তখন মানুষের ঢল নামে। হঠাৎ করে আমার প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ৫জন ধানের শীষের নেতাকর্মীকে আহত করে। আহতরা হলেন বেলায়েত হোসেন (৩০), নুরুল আফসার (৩৫), রাকিব (২৮) এবং নাঈমুল হক কাটার (২৮) ও আলমগীরকে (৩১)। আমি নিজেই একজন প্রার্থী। আমার ব্যবহৃত গাড়ি ও আমার সঙ্গে থাকা কর্মীদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উল্টো আহত দুজন নেতাকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি আমি নোয়াখালী জেলার সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মনির সহকারী রির্টানিং অফিসার ও জেলা রির্টানিং অফিসারকে জানিয়েছি। আমার নির্বাচনী এলাকায় সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন পরিবেশ নাই। সন্ত্রাসী বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদেরকে ভয়-ভীতি দেখায় এবং পুরুষ ভোটাররা কেন্দ্র গেলে তাদের ওপর হামলা হবে। আমার জীবনের নিরাপত্তা নেই। আমি আর গণসংযোগে যাবো না। ৮টি গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩শত লোক নেতাকর্মী তাদের হামলায় আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫০ জন গুরুতর আহত। তারা ঢাকা, চট্টগ্রামে চিকিৎসা নিচ্ছে। কেউ জেল খানায় আছে। এ আসনে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা হলো তাদের সফলতা আসবে, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তাহলে আমি গসংযোগ চালিয়ে যাব।

কুলিয়ারচরে গুলিতে বিএনপির প্রার্থীসহ আহত ২৫
কুলিয়ারচরে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের বিএনপি প্রার্থী বিএনপ্থির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি মো. শরীফুল আলমের নির্বাচনী গণসংযোগে পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পুলিশের গুলিতে অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও বিএনপি প্রার্থী মো. শরীফুল আলমসহ অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপি প্রার্থী মো. শরীফুল আলম জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে এক এসআই ও চার কনস্টেবলসহ মোট পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. নান্নু মোল্লা। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে কুলিয়ারচর বাজারের গাইলকাটা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
বিএনপি প্রার্থী মো. শরীফুল আলম জানান, বিকালে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তিনি উপজেলার বেতিয়ারকান্দি গ্রামের বাড়ি থেকে বড়খারচর যাচ্ছিলেন। পথে বিকাল ৪টার দিকে তিনি কুলিয়ারচর বাজারের গাইলকাটা এলাকা অতিক্রম করার সময় পেছন দিক থেকে পুলিশ অতর্কিতভাবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শরীফুল আলমের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে বিএনপি’র অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া শরীফুল আলম নিজেসহ আরো অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় কোনোরকমে একটি রিকশায় চড়ে শরীফুল আলম ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. নান্নু মোল্লা বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বেআইনি সমাবেশ করতে গেলে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা দেয়। এ সময় বিএনপি’র উশৃঙ্খল নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের এক এসআই ও চার কনস্টেবল আহত হন। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কালীগঞ্জে মিলনের স্ত্রীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর
গতকাল দুপুরে কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডে গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক এমপি একেএম ফজলুল হক মিলন (কারাগারে আটক) পক্ষে তার স্ত্রী মাইক্রোবাস করে থানায় অস্ত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় থানা সংলগ্ন কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সঙ্গে থাকা নির্বাচনী পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় গাড়িতে থাকা বেশ কয়েকজন মহিলা কর্মী আহত হন। পরে থানায় এসে তাদের তোলা ভিডিও দেখে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের নামসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মিলনের স্ত্রী শম্পা হক। এ সময় থানায় থাকা গাড়িটির ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
পরে শম্পা হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এম্বুলেন্স করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

চাঁদপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত-১০
চাঁদপুর শহরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপি প্রার্থীর বাড়ির সামনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। হামলায় ভাঙচুর করা হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর বাড়ির প্রধান ফটক।
গতকাল দুপুর ২টার দিকে বিএনপি’র একটি মিছিল শহরের নতুন বাজার এলাকার ধানের শীষের প্রার্থীর বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বাড়ির পাশ থেকে ইটপাটকেল ছুড়লে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে শহরের নতুনবাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় ১০ নেতাকর্মী আহত হন। পরে পুলিশ র‌্যাব ও বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহতদের অনেকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে সকালে চাঁদপুর-৩ আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট সলিম উল্লাহ সেলিমকে আটক করে পুলিশ। তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় অবস্থান নেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক । খবর পেয়ে বিএনপি’র শ’ শ’ নেতাকর্মী অবস্থান নেন থানার সামনে। পরে সবাইকে নিয়ে নিজ বাসভবনে ফেরার পথে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ।

লক্ষ্মীপুরে এ্যানীর ওপর হামলা, গুলি, আহত-৩০
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপি নেতা ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীর গণসংযোগে হামলায় প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, তিন সাংবাদিক, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার শান্তিরহাট বাজারে গণসংযোগকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পুলিশ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী নিজ বাসা থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগে বের হন। এ সময় সদর উপজেলার শান্তিরহাট বাজারে পৌঁছলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানের নেতৃত্বে নৌকার কর্মীরা অতর্কিতভাবে গণসংযোগে হামলা করে। হামলাকারীদের লাঠিও ইটের আঘাতে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, তিন সাংবাদিক ও নেতাকর্মীরা আহত হন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিন সাংবাদিক। একপর্যায়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবকদলের ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, কুশাখালী ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন মানিক, ছাত্রদল নেতা বদরুল ইসলাম শ্যামল, মিজানুর রহমান পলাশ, হারুনুর রশিদ, ইমতিয়াজ, জাহের, শিমুল, বরকত উল্যা ও আবদুল খালেকসহ ১৫ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই আবদুর রেজ্জাক ও এক কনস্টেবলও আহত হন। অন্যদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে।

নোয়াখালীতে খোকনের প্রচারে হামলা, গুলি, আহত-৫
নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের গণসংযোগ চলাকালীন সময়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল দুপুর ২ টার দিকে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন খিলপাড়া থেকে মল্লিকা দিঘীরপাড় যাওয়ার সময় একদল সন্ত্রাসী তার গাড়িবহরে ধাওয়া করে। এরপর শাহপুর উত্তর বাজার পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা তার প্রচার গাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা মাহবুব উদ্দিন খোকনের ঢাকা-মেট্টো-চ-১৭-৭২৫৯ ও ঢাকা মেট্টো-চ-৫২-০৪৫৭ গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় সোহেল রানা, ইমন, মহসিন, সাইফুল ও সবুজ ভূঁইয়া আহত হয়। ঘটনার পর পরই মাহবুব উদ্দিন খোকন চাটখিল থানায় এসে ওসি’র নিকট ঘটনার বর্ণনা করেন এবং সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে বলেন, সাহাপুর বাজারে সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে চাটখিল থানার ওসি সামছুদ্দিন জানান, মাহবুব উদ্দিন খোকন এর প্রচারণায় সময় থানা পুলিশ সহযোগিতা করছে। ওসি আরও জানান, মাহবুব উদ্দিন খোকন যে সমস্ত জায়গায় গণসংযোগ করবেন বলে থানায় জানিয়েছিলেন, সে সব জায়গা পুলিশ শর্তক অবস্থানে ছিল কিন্তু তিনি পুলিশকে না জানিয়ে গণসংযোগের রুট পরিবর্তন করেন। ঘটনার পর ওসি’র নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ঘটনার স্থলে পৌঁছেন।

নড়াইলে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, আহত ১০
নড়াইল-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ গণসংযোগে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলায় জেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক টিপু সুলতান, লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য রাকিব মণ্ডলসহ ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত বিএনপি নেতাদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর লোহাগড়াস্থ নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন ফরহাদ বলেন, দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য লোহাগড়া থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নড়াইলের উদ্দেশে যাওয়ার পথে এড়েন্দা বাসস্ট্যান্ডের কাছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা তার লোকজনকে লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় বিএনপি’র ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। এ সময় তারা পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

সোনাগাজীতে হামলায় আহত ৪
সোনাগাজীর বগাদানা ইউপি’র পাইকপাড়া গ্রামে গতকাল সকালে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই আওয়ামী লীগ কর্মী গুরতর আহত হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান আখম খোকন জানিয়েছেন, সকাল ৭ টার সময় ২টি সিএনজিযোগে ৮/৯ জন দুর্বৃত্ত বন্দুক, রামদা নিয়ে পশ্চিম পাইকপাড়া চর মজলিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আবদুল মালেকের ছেলে খুরশিদ আলম ও বজলুল করিমের ছেলে ইউনুছ সহ অজ্ঞাত ২ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাদের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

সোনারগাঁয়ে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় ছাত্রলীগের হামলা, আহত-১৫
নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ আসনের বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের প্রচারণায় স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা হামলা হয়েছে। গতকাল দুপুরে জামপুর ইউনিয়নের মাঝেরচর ঈদগাহ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের হামলায় ১৫ জন বিএনপিকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে চর উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করেছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সরিষাবাড়ী বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে আগুন
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গতকাল পৌরসভার আরামনগর বাজারের মুস্তাকের মার্কেটের সামনে আওয়ামী লীগের প্রাথী ডা. মুরাদ হাসানের নৌকা প্রতীকের প্রচারণার পথসভায় বিএনপি’র সর্মথকদের ককটেল নিক্ষেপ ঘটনায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র দু’গ্রুপের মাঝে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সুযোগে কতিপয় দুর্বৃত্তরা উপজেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় এক পথচারীর আরেকটি মোটর সাইকেল আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

সিরাজদিখানে শাহ মোয়াজ্জেমের প্রচারণায় হামলা, ৫টি গাড়ি ভাঙচুর
সিরাজদিখানে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম (মুন্সীগঞ্জ-১ আসন) নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে ১৮-২০ মোটরসাইকেলযোগে প্রায় ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাসী হামলা চালায়। ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা নেতাকর্মী সহ ৬ জন গাড়ির কাঁচ ভেঙে আহত হন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

শাহ মোয়াজ্জেম তার বক্তব্যে বলেন, আমরা পাউলদিয়া রাস্তা খারাপ থাকায় গাড়ি ঘুরিয়ে আসার সময়, ২০/২৫ টি মোটরসাইকেলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা এ হামলা চালায়। এখানে জেলার এসপিসহ দুই থানার ওসি জড়িত আছে।

তথ্য সূত্র, মানবজমিন লিংক সংযুক্ত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ