হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে প্রথম দেহদান করে নজির গড়লেন লিটন দাশ

sylhetsurma.com
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে প্রথম দেহদান করে নজির গড়লেন লিটন দাশ

Manual1 Ad Code

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষা ও গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য মরণোত্তর দেহদান করেছেন নবীগঞ্জর লিটন দাশ তালুকদার (৩৯)। আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে লিটন দাশের মৃতদেহটি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে।

Manual6 Ad Code

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য এটিই প্রথম কোনো মৃত মানবদেহ গ্রহণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

লিটন দাশ তালুকদার নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা এলাকার মৃত দ্বিজেন্দ্র দাশ তালুকদারের ছেলে। তিনি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। একপর্যায়ে তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন দাশ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার হরিনাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে নবীগঞ্জ শহরতলীর শিবপাশা এলাকায় বসবাস করছিলেন।

অসুস্থতার সময়ই তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেন, মৃত্যুর পর যেন তার মরদেহ দাহ না করে মানবকল্যাণে ব্যবহার করা হয়। এ উদ্দেশ্যে তিনি হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরে গত ১৩ আগস্ট হবিগঞ্জের নোটারি কার্যালয়ে মরণোত্তর দেহদানের ঘোষণাপত্র সম্পাদন করেন। এতে তার ভাই দিপু দাশ তালুকদার ও মা রেখা রাণী দাশ স্বাক্ষর করেন।

Manual5 Ad Code

রোববার বেলা ১১টার দিকে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন লিটন দাশ তালুকদার।

তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাবেদ জিল্লুল বারি, এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব, হিসাবরক্ষক সূর্য লাল রায় ও ক্যাশিয়ার নারায়ণ পালসহ সংশ্লিষ্টরা মরদেহ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

পাশাপাশি লিটন দাশের পরিবারের সদস্য, বাসদ হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট সবুজ দাশসহ সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টায় জেলা প্রশাসনের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

Manual1 Ad Code

আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিটন দাশের বড় ভাই দিপু দাশ তালুকদার ও স্বজনরা তার মরদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

মেডিকেল কলেজের পক্ষে এ সময় নবীগঞ্জে উপস্থিত ছিলেন এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য, প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব, হিসাবরক্ষক সূর্য লাল রায় ও ক্যাশিয়ার নারায়ণ পাল।

Manual7 Ad Code

মরদেহ হস্তান্তরের আগে বাসদ হবিগঞ্জ জেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে লিটন দাশের কর্ম ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাকে লাল সালাম প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাসদ নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী ফয়সল সুয়েব, বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম, বাসদ নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সদস্য কাঞ্চন চক্রবর্তী, দিপু চন্দ্র দাশ তালুকদার, তমাল ভট্টাচার্য, নরেন্দ্র পাল, কুমারেশ চক্রবর্তী, কংকন চক্রবর্তী, জয় চক্রবর্তীসহ অন্যরা।

লিটন দাশের এই মরণোত্তর দেহদানকে শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মৃত্যুর পর নিজের দেহও যেন মানুষের কাজে আসে—এমন প্রত্যয় রেখে যাওয়া লিটন দাশ মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন।