• ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

সারদা হলে হামলায় গ্রেপ্তার নেই, প্রতিবাদে রাস্তায় সংস্কৃতিকর্মীরা

sylhetsurma.com
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৩
সারদা হলে হামলায় গ্রেপ্তার নেই, প্রতিবাদে রাস্তায় সংস্কৃতিকর্মীরা

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সারদাস্মৃতি ভবনে সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় রোববার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবিতে রোববার নগরে মৌন মিছিল করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।

রোববার বিকাল চারটায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেট ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটেরর আয়োজনে সরদাহল প্রাঙ্গণ থেকে মৌন মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সম্মুখে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে মিলিত হয়।

এরআগে গত শুক্রবার এ ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি রজতকান্তি গুপ্ত।

রোববার মৌন মিছিল শেষে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি রজত কান্তি গুপ্তেরর সভাপতিত্বে ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটেরর সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তীর পরিচালনায় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারদা হলে নাট্য ও সংস্কৃতিকর্মীদের উপর হামলার বাহাত্তর ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখনো কোন সন্ত্রাসী হামলাকারী গ্রেপ্তার হয়নি তা খুবই হতাশাজনক।

তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে বর্তমান প্রতিটি সংগ্রাম, অন্যায়,অবিচার, স্বৈরাচার, রাজাকারের বিরুদ্ধে সংস্কৃতিকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এগিয়ে এসেছে। বক্তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সংস্কৃতি চর্চার উপর আগাতকে দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে, সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার বিকাশে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রতিহত করতে সম্মিলিত ভাবে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ব হন।

সভার সভাপতি রজত কান্তি গুপ্ত সকল সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মীদের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মুখে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মৌন মিছিলে শতশত নাট্য ও সংস্কৃতিকর্মী উপস্থিত হন এবং প্রতিবাদ সভার শেষ পর্যায়ে শিল্পীরা গণসংগীত পরিবেশন করেন।

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার মোঃ আরশ আলী, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট এর প্রাক্তন পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভবতোষ রায়বর্মন রানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি তুষার কর, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাজনীন হোসেন, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোকাদ্দেস বাবুল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আল আজাদ, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট এর প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য প্রতীক এন্দ টনি, চিত্রশিল্পী সমন্বয় পরিষদ সিলেট এর সদস্য সচিব শামসুল বাসিত শেরো, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা সিলেট বিভাগ এর সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জনা দাশ যুঁই, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ।

সাংস্কৃতিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট এর প্রাক্তন সভাপতি অম্বরীষ দত্ত, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সিলেট জেলার সভাপতি এনায়েত হাসান মানিক, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট এর পরিচালক অনুপ কুমার দেব, অর্ধেন্দু কুমার দাশ, প্রাক্তন সভাপতি নাট্যজন নিরঞ্জন দে যাদু, নাট্যজন আশুতোষ ভৌমিক বিমল, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রানা কুমার সিনহা, সাংস্কৃতিক সংগঠক বিভাষ শ্যাম পুরকায়স্থ যাদন, নীলাঞ্জন দাশ টুকু, খোয়াজ রহিম সবুজ, , বিধু ভূষন ভট্টাচার্য প্রমুখ।

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে গণসংগীত পরিবেশন করেন নিরঞ্জন দে যাদু, প্রতীক এন্দ টনি, ড. অভিজিৎ দাস জয়, অনিমেষ বিজয় চৌধুরী, রতন দেব প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বিএনপির রোড মার্চ ও সমাবেশে যোগ দিতে আসা কয়েক জন নেতা-কর্মী নগরের কিনব্রিজ সংলগ্ন সারদা হলে উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। হামলায় অন্তত ১০ সংস্কৃতিকর্মী আহত হন বলে সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন লিটল থিয়েটারের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ূম মুকুল, নাট্যকর্মী হুমায়ুন কবির জুয়েল, নাহিদ পারভেজ বাবু, চয়ন পাল শান্ত, নাট্য সংগঠক বিভাস শ্যাম যাদন, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি রজতকান্তি গুপ্তের ছেলে লামানুজ গুপ্ত।